Siliguri | শিলিগুড়িতে ফের সক্রিয় এটিএম প্রতারণাচক্র   

Siliguri | শিলিগুড়িতে ফের সক্রিয় এটিএম প্রতারণাচক্র   

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


শিলিগুড়ি: ফের শহরে সক্রিয় এটিএম প্রতারণার চক্র (Siliguri)। শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকায় এটিএমের দেওয়ালে হেল্পলাইনের নম্বর দিয়ে নতুন করে প্রতারণার চক্র শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এই ধরনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, এটিএম কার্ড ঢোকানোর পরেই সেটা মেশিনে আটকে যাচ্ছে। এমনকি, টাকাও আটকে যাচ্ছে। দেওয়ালে লিখে রাখা হেল্পলাইনে ফোন করার পরই এটিএমের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মীর পরিচয় দিয়ে ২ তরুণ কাউন্টারে চলে আসে। এরপরই সহযোগিতার নাম করে, কথার জালে জড়িয়ে উপভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহেই প্রধাননগর থানা এলাকায় এই ফাঁদের খপ্পরে পড়েছিলেন এক তরুণী। ওই তরুণীর কথায়, ‘এটিএমে ঢুকে টাকা বের করার জন্য কার্ড ঢোকাই। যাবতীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। এরপর দেখি মেশিন থেকে কার্ড আর টাকা, কোনওটাই বেরোচ্ছে না। কোনও নিরাপত্তারক্ষীকে না পেয়ে ওই দেওয়ালে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করি। তারপর ২ ব্যক্তি ব্যাংককর্মী পরিচয় দিয়ে আসে। তারা বেশ কিছুক্ষণ এটিএম কার্ড বের করার ছলনা করে। তারা সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় যেতেও বলে।’

এরপর ওই তরুণী তাদের বিশ্বাস করে ওই ব্যাংকের শাখার দিকে এগোন। কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পরই তরুণীর হুঁশ ফেরে। এটিএম কাউন্টারে ফিরে দেখেন, মেশিনে আটকে যাওয়া টাকা ও কার্ড নেই!  ঘটনায় হাজার পাঁচেক টাকা খোয়া যায় ওই তরুণীর।

জানা যাচ্ছে, ২ তরুণের মধ্যে একজন উপভোক্তাকে কথার জালে ফাঁসিয়ে এটিএম কাউন্টারের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকজন ভেতরে থেকে যাচ্ছে। এরপর এটিএম কাউন্টার থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যাওয়ার পরেই কাউন্টারের ভেতরে থাকা চক্রের সদস্য টাকা ও এটিএম কার্ড নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এটিএমের টাকা বেরোনোর ও কার্ড ঢোকানোর জায়গায় দুষ্কৃতীরা এক ধরনের ক্লিপের ব্যবহার করছে। সেই ক্লিপেই আটকে যাচ্ছে টাকা ও কার্ড।

জংশন এলাকার পাশাপাশি মাটিগাড়া ও বাগডোগরা এলাকায় একই পদ্ধতিতে এধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং অবশ্য আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের চিহ্নিতকরণ হয়ে গিয়েছে। দ্রুতই তাদের পাকড়াও করা হবে।’

প্রশ্ন উঠছে, শহরের এটিএমগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়েও। একের পর এক এটিএম মেশিন লুটের পরেও কেন নিরাপত্তারক্ষী নেই, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে শহরের বিভিন্ন মহল।

গত সপ্তাহে একই ঘটনার সম্মুখীন হন এক বৃদ্ধ। শিবমন্দির এলাকার একটি এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও এটিএমে তাঁর টাকা আটকে যায়। হাজার তিনেক টাকা খোয়া যায় তাঁর। শহরের বাসিন্দা অভিজিৎ দাসের কথায়, ‘এটিএমে এই কারণেই নিরাপত্তারক্ষী থাকাটা প্রয়োজন। এটিএমে নিরাপত্তারক্ষী থাকলে এধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে না।’ প্রসঙ্গত, শহর শিলিগুড়িতে এর আগেও একই পদ্ধতিতে এটিএম প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। মাঝে কিছুদিন এই সমস্যা বন্ধ থাকলেও ফের নতুন করে তা মাথাচাড়া দিচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *