উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ খাস কলকাতার একটি নামী সুইমিং ক্লাবের পুলে সাঁতার কাটতে নেমে মৃত্যু হলো এক ১৬ বছরের কিশোরের (Dhakuria Swimming Pool Dying)। ঢাকুরিয়ার ওই পুলে সাঁতার কাটতে নামার পর হঠাৎই জলে তলিয়ে যায় সে। প্রায় সাত বছর ধরে সাঁতার কাটার সুবাদে ‘সুইমার’ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি থাকলেও, কী করে সে জলের নিচে তলিয়ে গেল তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পুলে উপস্থিত কেউ বিষয়টি লক্ষ্যই করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনায় পুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও গাফিলতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম সরিপ ঘোষ (১৬)। সে শহরের একটি নামী স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিত সাঁতার কাটত। শুক্রবার নিয়ম মেনেই সে ঢাকুরিয়ার ওই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নামে। কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পরেই সে আচমকা জলের নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে এবং নিজেকে আর সামলাতে পারেনি। অভিযোগ, প্রথম ১৫ মিনিট ধরে এই ঘটনা কারোরই চোখে পড়েনি। বেশ কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নজরে আসতেই তাকে জল থেকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে সাঁতার জানা সত্ত্বেও একজন অভিজ্ঞ সাঁতারু কীভাবে জলের গভীরে ডুবে মারা গেল, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুল চত্বরে লাইফ গার্ড বা প্রশিক্ষকরা সেই সময় কী করছিলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে মৃতের পরিবার। ক্লাবের পক্ষ থেকে চরম গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, পুলে সেফটি প্রোটোকল ঠিকঠাক মানা হচ্ছিল কি না এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

