নয়াদিল্লি: একাধারে আতঙ্ক ও বিস্ময়। সেই ঘোর এখনও যেন কাটছে না দোকানির। সোমবার ভর সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন ওই দোকানদার। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এমন বিকট শব্দ জীবনে শুনিনি। বিস্ফোরণ যখন ঘটল, আমি দোকানে চেয়ারে বসেছিলাম। কানফাটানো শব্দের ধাক্কায় পড়ে গেলাম তিন-তিনবার। আমার মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবী এখনই ধসে পড়বে।’ তিনি আরও জানান, প্রাণ বাঁচাতে তিনি দোকান ছেড়ে দৌড়ে পালিয়েছিলেন। তাঁর দেখাদেখি আরও অনেক পরিবার আতঙ্কে ছুটতে শুরু করে। তাঁর মনে হচ্ছিল, ‘যেন আরও একটা বিস্ফোরণ হবে আর আমরা সবাই মারা যাব।’
লালকেল্লার সামনে মেট্রো স্টেশনের অদূরে বিস্ফোরণের ফলে কাছের ভবনগুলিও কেঁপে ওঠে, যা বহু দূর থেকেও অনুভূত হয়েছে। আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা রাজধর পান্ডে বলেন, ‘আমি আমার বাড়ি থেকে ধোঁয়া দেখতে পেয়েছিলাম এবং নীচে এসে দেখি কী হয়েছে। একটা বিকট শব্দ হয়েছিল। তীব্রতায় জানালার কাঁচ সব কেঁপে ওঠে।’
তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাটি শোনালেন অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী। বিস্ফোরণের পর রাস্তার ওপর মানুষের ছিন্নভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পড়ে থাকতে দেখার কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রথমে রাস্তায় ফুসফুস পড়ে থাকতে দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তারপর যখন দেখলাম একজন মানুষের হাত রাস্তায় পড়ে আছে, তখন আমরা একেবারে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। সেই ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নং ১-এর কাছে এই বিস্ফোরণে কয়েকটি গাড়ি পুড়ে যায় এবং আশেপাশের এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। আহতদের লোক নায়ক জয় প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজধানী জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
