Cooch Behar | মশার কামড়েই রাত কাটান রোগীর পরিজনরা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন   

Cooch Behar | মশার কামড়েই রাত কাটান রোগীর পরিজনরা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন   

শিক্ষা
Spread the love


তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট: একখণ্ড প্রতীক্ষালয়! আর তার গা ঘেঁষেই হাসপাতালের শৌচাগার। এটাই আশ্রয় তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনদের। এখানেই দিনের পর দিন খাওয়াদাওয়া, রাতের অন্ধকারে আশঙ্কিত মনে বিশ্রাম। চারিদিকে মশার উপদ্রব, আবার মাঝেমধ্যে বৃষ্টি বা ঠান্ডা পড়লে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবুও এই কঠিন পরিবেশেই দিন গুজরান করতে বাধ্য হন অসহায় পরিজনরা।

যদিও এ ব্যাপারে মহকুমা হাসপাতালে সুপার মৃণালকান্তি অধিকারীর বক্তব্য, ‘সমস্যাটি আমাদের নজরে রয়েছে। শীঘ্রই যাতে সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব।’

অসমের ধুবড়ির বাসিন্দা নয়ন বর্মন শনিবার স্ত্রীকে ভর্তি করেছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে। বাড়ি দূরে হওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্ত্রীর সেবাযত্নে পাশে থাকেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই— রাত কাটাবেন কোথায়? হাসপাতালের ভেতরে থাকার মতো কোনও স্থায়ী ঘর নেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রতীক্ষালয়েই সময় কাটাতে হয় পরিজনদের। কেউ মাটিতে, কেউবা পাথরের বেঞ্চে বসেই রাত জাগেন মশার কামড়ে।

একই চিত্র বক্সিরহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও। এখানে পরিস্থিতি আরও করুণ। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, থাকার ঘর তো দূরের কথা, বিশ্রামাগারের চারদিকে কোনও দেওয়ালই নেই। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বসার আসন ভিজে যায়। কীভাবে যে রাত কাটান তাঁরা, বলার নয়! তাঁদের দাবি, প্রশাসন যদি ছোট কিছু রাত কাটানোর ঘর তৈরি করে দিত, তবে পরিজনদের অনেক কষ্ট লাঘব হত।

২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও একটি পুরসভা এলাকার মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এই তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল। পাশাপাশি নিম্ন-অসমের বহু মানুষও চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি রোগীর ভিড় লেগে থাকে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে পরিজনদের জন্য স্থায়ী কক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক উদাসীনতার পরিচায়ক বলেই মনে করছেন অনেকেই। হাসপাতাল নির্মাণকালে পূর্ত দপ্তরের উদ্যোগে প্রতীক্ষালয়টি তৈরি হয়েছিল। ২০১৪ সালে একবার পাথর লাগিয়ে সামান্য সংস্কার করা হলেও এরপর আর তেমন কাজ হয়নি। তবুও এই প্রতীক্ষালয় না থাকলে পরিজনদের খোলা আকাশের নীচেই রাত কাটাতে হত। সমস্যার ব্যাপারে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রতিভা বর্মন বলছেন, ‘এটা খুব ভালো প্রস্তাব। রোগীদের পরিজনদের রাত কাটানোর ঘর অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি আলোচনা সহকারে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’

কিন্তু ততদিন পর্যন্ত? রোগীর পরিজনদের প্রশ্ন প্রতিদিনের মতোই কি মশার কামড়, ঠান্ডা হাওয়া আর ভেজা মেঝের ওপরেই কাটবে রাত?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *