নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: শৈলশহর দার্জিলিং ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে। কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া উড়িয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে ছুটে চলা খেলনা গাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দার্জিলিং স্টেশন (Darjeeling Railway Station) আবারও তার পুরোনো রূপ ফিরে পেতে চলেছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইউনেসকো এবং ভারতীয় রেল বোর্ডের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। রেলকর্তাদের দাবি, শৈলশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দার্জিলিং স্টেশনের পুরোনো রূপ পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হবে।
সমতল থেকে প্রায় ২ হাজার ৭৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত দার্জিলিং স্টেশন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা। হেরিটেজ তকমা পাওয়া টয়ট্রেনের একাধিক জয়রাইডের যাত্রা এই স্টেশন থেকেই শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসনকালে পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা স্টেশনটি ১৯৩০ সালের পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর স্টেশনটিকে নতুন করে গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্টেশনের বাহ্যিক রূপেরও অনেকটাই পরিবর্তন ঘটেছে।
এবার ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ স্টেশনটিকে পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে। ডিএইচআর কর্তারা জানিয়েছেন, এর জন্য আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে। পুরোপুরিভাবে কাজ শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় তিন বছর। নয়া অর্থবর্ষেই সেই কাজ শুরু করা হবে। একাধিক ফেজে কাজ চলবে।
রেলকর্তাদের দাবি, বর্তমানে স্টেশন চত্বরে একাধিক স্টল থেকে শুরু করে রেলিং বসেছে। সংস্কারপর্বে সেসব সরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশন চত্বরে আধুনিক কিছু সুযোগসুবিধার বন্দোবস্ত করা হবে।
এই কাজের জন্য ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (আইএসআই) আর্কিটেক্টদের দিয়ে ডিটেলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করিয়েছে। সম্প্রতি সেই ডিপিআরে সম্মতি প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। এমনকি ভারতীয় রেল বোর্ডও সবুজ সংকেত দিয়েছে। এখন শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা।
ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বললেন, ‘রেল বোর্ড ও ইউনেসকোর অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই দার্জিলিং রেলস্টেশনকে পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হবে। এর জন্য তিন বছর সময় লাগবে।’ তিনি আরও জানান, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দার্জিলিং রেলস্টেশনকে ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্টেশনে পরিণত করা হবে।
রেলকর্তারা জানিয়েছেন, এখনকার দার্জিলিং রেলস্টেশনটি আর্ট ডেকো শৈলীতে গড়ে উঠেছিল। যা দেখতে অনেকটা সাবমেরিনের মতো। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে স্টেশনের পুরোনো রূপ প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। স্টেশন চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক নতুন পরিকাঠামোও গড়ে উঠেছে। ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ এবার সেসব পরিকাঠামো পুরোপুরিভাবে সরিয়ে দিতে চাইছে। লক্ষ্য স্টেশনকে পুরোনো রূপে ফিরিয়ে এনে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
