দার্জিলিং: ১৮৩৫ থেকে ২০২৬— পেরিয়ে গিয়েছে ১৮৯টি বছর। ১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি পাহাড়ের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এই দিনেই এক ঐতিহাসিক চুক্তির (Deed of Grant) মাধ্যমে সিকিমের তৎকালীন চোগিয়াল বা রাজা (Sikkim Chogyal) দার্জিলিংকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এই বিশেষ দিনটিকে আধুনিক দার্জিলিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর দিবস হিসেবে গণ্য করে প্রথমবারের মতো ‘দার্জিলিংয়ের জন্মদিন’ (Darjeeling Birthday) উদযাপন করলেন স্থানীয় নাগরিকরা।
শৈলশহরের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এদিন দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে একত্রিত হয়েছিলেন লেবং কার্ট রোডের একটি প্রাচীন গোরস্থানে। সেখানে শায়িত রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জর্জ ডব্লিউ এলমার লয়েড (George Aylmer Llyod), যাঁকে দার্জিলিং শহর আবিষ্কার ও পত্তনের প্রধান কারিগর বলা হয়। স্থানীয় নাগরিকদের উদ্যোগে তাঁর সমাধিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, লয়েডই প্রথম পাহাড়ি জনপদ দার্জিলিংয়ের সম্ভাবনা উপলব্ধি করেছিলেন এবং এটিকে আজকের রূপ দেওয়ার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান রূপকার পালজোর শেরিং ভুটিয়া বলেন, “এটি পাহাড়ের জন্য একটি গর্বের দিন। ১৮৩৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমেই আজকের দার্জিলিংয়ের পত্তন হয়েছিল। আমরা এতদিন এই ইতিহাসকে সেভাবে উদযাপন করিনি। এবারই প্রথমবার নাগরিকরা সম্মিলিতভাবে শহরকে সম্মান জানাতে জন্মদিন পালন করছি।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই কর্মসূচির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই। এটি নিছকই ইতিহাসকে জানা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পাহাড়ের ঐতিহ্যের কথা পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এ বছর ঘরোয়াভাবে শুরু হলেও আগামী দিনগুলিতে ১ ফেব্রুয়ারি তারিখটিকে প্রতি বছর ঘটা করে পালন করা হবে। পাহাড়ের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্যালেন্ডারে এই দিনটি বড় জায়গা করে নেবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। দার্জিলিংয়ের এই ‘জন্মদিন’ উদযাপন যেমন ইতিহাসপ্রেমীদের আনন্দ দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও শহরটির পত্তনের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
