সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বাজেট নিয়ে বঙ্গবাসীর প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু আদৌতে বাংলার প্রাপ্তি শূন্য। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তব্যে বাংলা নিয়ে কোনও প্রকল্প কিংবা আর্থিক বরাদ্দের কথা ঘোষণা হয়নি। তাতে কার্যত আশাহত বঙ্গবাসী। যা নিয়ে ইতিমধ্যে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের এই বাজেট দিশাহীন। এমনকী ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলেও ব্যাখ্যা করেছেন প্রশাসনিক প্রধান। তবে শুধু নতুন প্রকল্প কিংবা আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা নয়, কলকাতা মেট্রোর বরাদ্দেও কাটছাঁট করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তথ্য বলছে, গত দুই অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫, ২০২৪-২৫ এর তুলনায় আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ এ যে বরাদ্দ করা হয়েছে তা অনেকটাই কম।
এই বিষয়ে আরও খবর
তথ্য বলছে দমদম বিমানবন্দর-নিউ গড়িয়া ভায়া রাজারহাট মেট্রোর জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছিল ১,৭৯১.২৯ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছিল ১,৫৫০.০০ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ৭২০.৭২ কোটি টাকা। অন্যদিকে জোকা বিনয় বাদল দীনেশ ভায়া মাঝেরহাট মেট্রোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,২০৬.৬১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৮৫০.০০ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৯১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই মেট্রো প্রকল্পে বরাদ্দ না বাড়ায় আগামিদিনে প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন পাতালপথ অর্থাৎ গ্রিন লাইনের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। মাঝে মধ্যেই এই লাইনে একাধিক যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা যায়। কখনও পাতালপথে জল ঢুকে যায় আবার কখনও সিগন্যালের সমস্যার জেরে থমকে যায় মেট্রো চলাচল। শুধু তাই নয়, গত কয়েকদিন আগে কবি সুভাষ মেট্রোর পিলারে ফাটল সামনে আসে। যার ফলে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন। যার ফলে চূড়ান্ত ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। এই অবস্থায় প্রশ্নের মুখে মেট্রোর সংস্কার। সেখানে দাঁড়িয়ে নামমাত্র এই বরাদ্দ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
