রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: আপেলের জন্য আর শুধু কাশ্মীর বা হিমাচলপ্রদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। এবার রাজ্যের বুকেই মিলবে টাটকা আপেল, যা স্বাদে গন্ধে কাশ্মীরের কথাই মনে করাবে। এমনই আশা সিঙ্কোনা প্রকল্প অধিকর্তা স্যামুয়েল রাইয়ের। তিনি বলেছেন, ‘দার্জিলিংয়ের বেশ কিছু অংশের আবহাওয়া আপেল চাষের জন্য উৎকৃষ্ট। আগামীদিনে দার্জিলিংয়ের কমলালেবুর মতোই আপেল নিয়েও চর্চা হবে, এটা আমার বিশ্বাস।’ তিনি জানিয়েছেন, ২০২৮ সাল নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ের আপেল বিক্রির জন্য বাজারে আসতে পারে (Darjeeling Apple)। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেছেন, ‘পর্যটকরা কমলালেবুর টানে দার্জিলিং বেড়াতে আসেন। আবার আপেলের টানে কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশের সিমলা, মানালি ঘুরতে যান। আমাদের পাহাড়েই যদি আপেল চাষ হয়, এখানেই গাছে আপেল ঝুলতে দেখা যায়, তাহলে আর কাশ্মীর, সিমলা, মানালি যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। পর্যটকের সংখ্যাও বাড়বে। ভীষণ ভালো উদ্যোগ।’
পর্যটনের পাশাপাশি চা এবং কমলালেবুর জন্য বহু দশক ধরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে দার্জিলিং। কিন্তু গত এক দশকে দার্জিলিংয়ের পরিচিতি আরও অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। কমলালেবুর ২০-২৫ বছরের পুরোনো গাছগুলিতে আর ফলন না হওয়ায় সেগুলি উপড়ে ফেলে নতুন ভ্যারাইটির কমলালেবুর চাষও শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি সিট্রনেলা চাষেও জোর দিয়েছে সিঙ্কোনা কর্তৃপক্ষ। এবার তার সঙ্গে জুড়তে চলেছে আপেলও।
সিঙ্কোনার প্রকল্প অধিকর্তা বলেছেন, ‘২০২২ সাল নাগাদ মংপুতে দুই কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কাশ্মীর ভ্যারাইটির আপেল চাষ করা হয়েছিল। দু’বছরের মধ্যেই সেই গাছে আপেল হয়। কিছু আপেল রোগপোকার আক্রমণে নষ্ট হলেও বাকি আপেলগুলি অনেক বড় এবং সুমিষ্ট হয়েছিল।’ তাঁর কথায়, ‘পরীক্ষামূলক চাষে যে ফলন হয়েছিল, তাতে কাশ্মীরের আপেলের সঙ্গে মংপুতে হওয়া আপেল মিশিয়ে দিলে কেউ স্বাদে ফারাক বুঝতে পারবেন না।’
পরীক্ষামূলক এই সাফল্যের পরে এবার মংপু থেকে আরও অনেক উচ্চতায় মানেভঞ্জনে আপেল চাষ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় তিন একর জমিতে ১০ হাজার আপেলের চারা বসানো হয়েছে। মংপুর শীতকালীন তাপমাত্রা যেখানে ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, সেখানে মানেভঞ্জনে ১-২ ডিগ্রিতে নেমে যায়। ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে মাঝেমধ্যে এখানে আবার কিছুদিন তুষারপাতও হয়। আবার গ্রীষ্মে মংপুর তাপমাত্রা অনেকটাই বাড়লেও মানেভঞ্জনের আবহাওয়া ততটা গরম হয় না। যা আপেল চাষের জন্য উৎকৃষ্ট। মানেভঞ্জনে আপেল চাষের জমিতে নজরদারি এবং নিয়মিত জমি পরীক্ষা, কীটনাশক দমনের জন্য নির্দিষ্ট কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘দু’বছর পরেই গাছে ফলন আসার কথা। মংপুতে তেমনই হয়েছিল। আমরা আশা করছি, ২০২৮ সালের প্রথম দিকে কিছুটা ফলন পাওয়া যাবে।’ পাশাপাশি মংপুতেও এবার ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সিঙ্কোনার প্রকল্প অধিকর্তা জানিয়েছেন, আরও কোন এলাকায় আপেল চাষ করা যায়, সেটা দেখা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে নতুন করে আরও চারা বসানো হবে।

