ব্যুরো নিউজ: খাঁচাবন্দি অবস্থায় এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ চিতাবাঘের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ডামডিমের গুডহোপ চা বাগানে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। গত বেশ কয়েকদিন থেকেই ডামডিম গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গুডহোপ চা বাগানে চিতাবাঘের উপস্থিতি টের পাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। যে কারনে চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি মেনে চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে ছাগলের টোপ দিয়ে একটি খাঁচা পাতে মাল বন্যপ্রাণ শাখা। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে সেই খাঁচাবন্দি হয় একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ চিতাবাঘ। সকালের বৃষ্টির মাঝেই খাঁচাবন্দি চিতাবাঘের হুংকার শুনে বেশকিছু শ্রমিক ওই এলাকায় ভিড় জমান। খবর দেওয়া হয় মাল বন্যপ্রাণ শাখায়। বন্যপ্রাণ বিভাগের রেঞ্জ অফিসার অঙ্কন নন্দীর নেতৃত্বে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাঁচাবন্দি চিতাবাঘটিকে গরুমারার এনআইসি’তে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মাঝেই মৃত্যু হয় চিতাবাঘটির।
বিরু নায়েক ও চামড়া মুন্ডা নামে গুডহোপ চা বাগানের দুই শ্রমিক জানান, বন্দি অবস্থায় শুরুর দিকে খাঁচার ভেতর উত্তেজিত অবস্থায় দাপাদাপি করছিল চিতাবাঘটি। বেরিয়ে আসার জন্য লোহার খাঁচার শিকগুলোতে সজোরে ধাক্কা মারতে শুরু করতে থাকে প্রানীটি। এভাবেই কিছুক্ষন পর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে সেটি। ঘটনাস্থলে একজন পশু চিকিৎসককে ডেকে আনেন বনকর্মীরা। তিনি চিতাবাঘটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর কিছুক্ষণ চিতা বাঘটিকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর ময়নাতদন্তের জন্য লাটাগুড়ির এনআইসিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে খাঁচাবন্দি অবস্থায় পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, ‘খাঁচার ভেতর লাফাঝাপি করতে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় চিতাবাঘটি। ওই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়।ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এই বিষয়টি উল্লেখ আছে।’
