বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পতিরাম: দারিদ্র্য কখনও স্বপ্নকে থামাতে পারে না— এই কথাটাই সত্যি প্রমাণ করেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) তপনের (Tapan) রামপুর এলাকার মেয়ে চম্পা সোরেন। বছর একুশের এই তরুণী এখন ভুটানের ন্যাশনাল ক্লাব ফুটবল লিগে ‘ইউনাইটেড উইমেন এফসি’ দলের হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন। মাত্র দু’দিন আগে তিনি তাঁর অভিষেক ম্যাচ খেলেছেন। যা শুধু তাঁর নয়, গোটা এলাকার কাছে গর্বের মুহূর্ত।
চম্পার বাবা জার্মান সোরেন খেতমজুর। মা ঘর সামলান। আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রায় সাড়ে চার বছর আগে, মাত্র ষোলো বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে পতিরাম হাইস্কুল মাঠে ফুটবল খেলতে আসেন চম্পা। তখনই তাঁর পরিচয় হয় পিএইচএস ৯২ ফুটবল অ্যাকাডেমির সঙ্গে। অধ্যবসায় তাঁকে দ্রুত এগিয়ে দেয়। কয়েক মাস আগে ভুটানের একটি ক্লাবের প্রতিনিধি এসে অ্যাকাডেমি থেকে পাঁচজন খেলোয়াড়কে বেছে নেন। তবে বয়স ও নথিপত্রের জটিলতার কারণে চারজনের মধ্যে একমাত্র চম্পাই সুযোগ পান বিদেশে যাওয়ার।
বর্তমানে ভুটানে রাইট উইং পজিশনে খেলছেন চম্পা। নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জ— সবকিছুর মধ্যেও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। চম্পা বলেন, ‘ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল ফুটবল খেলব। গ্রামের ছেলেদের দেখে শুরু করি। এখানে চার বছর ধরে অনুশীলন করেছি। এখন ভুটানে এসে খেলতে পারছি, খুব ভালো লাগছে।’
