Cyclone Arnab | দুর্বল হচ্ছে অর্ণব, তবুও বিপদ কাটেনি! অন্ধ্রপ্রদেশে তাণ্ডবের পর বাংলাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে অবশেষে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে প্রবেশ করল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab)। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারালেও এই ঝড়ের জেরে অন্ধ্রপ্রদেশে এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়। শুধু অন্ধ্র ও ওডিশা নয়, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গেও। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের একাধিক জেহলাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার রাত ২টো থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ঝড়ের জেরে বিশাখাপত্তনম, আনাকাপাল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক বিমান ও ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে কিছুটা দুর্বল হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। আগামী ১২ ঘণ্টায় এটি আরও শক্তি হারাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঝড় দুর্বল হলেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বজায় রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ৩১৫ মিলিমিটার এবং বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

অর্ণবের প্রভাবে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতেও বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকা, গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুনিতে সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সমুদ্রে স্নান করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকে প্রচার চালিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। কাকদ্বীপে মোতায়েন রয়েছে এনডিআরএফ (NDRF) টিম।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া সহ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কলকাতা, হুগলি, নদীয়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদেও বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দিনাজপুর ও মালদহেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। রাজ্য প্রশাসনের তরফে নবান্ন ও বিভিন্ন দপ্তরে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *