যুদ্ধের মাঝপথেই নির্বাচন। আগামী দিনে ইজরায়েল কোন পথে যাবে, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গণদেবতা। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কুর্সি ধরে রাখতে পারবেন কিনা। ইজরায়েলি কেনেসেটের ইতিহাস বলছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার্যত হয়ই না সেদেশে। সেই ধারাই আরও একবার বজায় থাকতে চলেছে তেল আভিভে। তবে চমকপ্রদ উত্থান ঘটেছে ইজরায়েলের আরবপন্থী দলগুলির।
১২০ আসনের কেনেসেটে সরকার গড়তে চাই ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট বা বিরোধী জোট এই ম্যাজিক ফিগার থেকে বহু দূরে। ৫৫র গণ্ডিই পেরতে পারেনি কেউ। এহেন পরিস্থিতিতে মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে আরব দলগুলি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ১৭ থেকে ১৯টি আসন যেতে পারে জয়েন্ট লিস্ট-সহ একাধিক আরব দলের দখলে। এই আরব দলগুলি মূলত ইজরায়েলে বসবাসকারী ২০ শতাংশ প্যালেস্তিনীয়দের প্রতিনিধিত্ব করে। গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ আসন যেতে চলেছে আরব দলগুলির দখলে, এমনটাই উঠে আসছে গণনায়।
আরও পড়ুন:
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নতুন সরকারে দাবিদাওয়ার তালিকাও করে ফেলেছে আরব দলগুলি। বিশ্লেষকদের অনেকেই অনুমান করছেন, নেতানিয়াহুকে কুর্সি থেকে সরাতে আরব দলগুলির সঙ্গে হাত মেলাতে পারে ইজরায়েলের বিরোধীরা। আরবদের সমর্থন পেলে ‘বিবি’র বিদায় একেবারে নিশ্চিত করে ফেলবে বিরোধী জোট। যদিও দল হিসাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে চলেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদই।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই অবশ্য ভোটচুরির অভিযোগ এনেছেন নেতানিয়াহু। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, মঙ্গলবারের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরব দলগুলি কারচুপি করেছে। ঘুষ, হিংসা, হুমকি, ছাপ্পা ভোট, ভুয়ো নথির ব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী, ইজরায়েলের মসনদে ফিরবেন তাঁর প্রিয় ‘বিবি’ই। যদিও ইজরায়েলের বিরোধীরা দাবি করছেন, মানুষ পরিবর্তন চাইছে। সবমিলিয়ে টানটান থ্রিলার চলছে ইজরায়েলের নির্বাচন ঘিরে। মাত্র ৫ লক্ষ ভোট গোনা বাকি রয়েছে। সেই ভোটেই নির্ধারিত হবে ইজরায়েলের ভাগ্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
