জলপাইগুড়ি: উৎসবের মরশুম দরজায় কড়া নাড়তেই কেনাকাটার ধুম পড়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীরা। বিপুল ছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের (On-line procuring platform) মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জাল (Cyber fraud security) বিস্তার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার সহ-অধিকর্তা দেবাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, যে লোভনীয় অফারের পেছনে লুকিয়ে থাকে সাইবার প্রতারণার মারাত্মক ফাঁদ। বিশেষ করে পুজোর সময় কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ায় হুট করে গজিয়ে ওঠা প্রচুর অনামী শপিং সাইট নানা ধরনের আকর্ষক ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের বোকা বানায়। অনেক সময় নামী অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের নামের বানানে সামান্য হেরফের করে ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় এবং সেখানেও একই কায়দায় বড় ছাড়ের লোভ দেখানো হয়। সেই ফাঁদে পা দিয়ে কেউ যদি ফোন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার করে ফেলেন, তবে মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ খালি হয়ে যেতে পারে।
এই ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন কেনাকাটা করার সময় ক্রেতাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং হুট করে গজিয়ে ওঠা অনামী বা অপরিচিত সাইটগুলি পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন আধিকারিকরা। কেনাকাটার জন্য শুধুমাত্র বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মগুলিকেই বেছে নেওয়া উচিত।
পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর শেয়ার করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেবাশিস মণ্ডল উল্লেখ করেছেন যে সাইবার প্রতারণার প্রাথমিক সূত্রপাত হয় এই ফোন নম্বর থেকেই, কারণ এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধার সহ বিভিন্ন সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য। গ্রাহকদের সুরক্ষার স্বার্থে বিভিন্ন শপিং মলে অকারণে বা অপ্রয়োজনে ফোন নম্বর না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর। সাইবার অপরাধের এই জাল থেকে বাঁচার একমাত্র চাবিকাঠি হলো সচেতনতা। আর সেই কারণেই দপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রসারের প্রচারমূলক কার্যক্রমে এখন বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

