উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ফের বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম (Crude Oil Worth Hike)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল বেড়ে ১০২ থেকে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯২ থেকে ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, একটি ব্যারেলে প্রায় ১৫৯ লিটার (নির্দিষ্ট মাপে ১৫৮.৯৮৭ লিটার) বা ৪২ মার্কিন গ্যালন তেল থাকে। ভারত তার মোট প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই আমদানি করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের পাশাপাশি ওমান ও দুবাইয়ের অশোধিত তেলের দামের ভিত্তিতে নির্ধারিত ‘ইন্ডিয়ান বাস্কেট’-এর দাম মঙ্গলবার একলাফে প্রতি ব্যারেল ১১৭.৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ ঠিক এক মাস আগে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই দাম ছিল ১০৭ ডলারের কাছাকাছি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বে একটি বিশাল ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’ এবং মাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটসহ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরান-যুদ্ধ শুরুর আগে সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্ব তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এই পথ দিয়েই যেত। ইরাক, কুয়েত, বাহরিন ও কাতার থেকে তেল আনার এটিই প্রধান পথ। সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেল পাঠাতে চাইলেও, বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথিদের হুমকির কারণে সেই পথও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে সুয়েজ খালের দীর্ঘ পথ ব্যবহার করলে পরিবহণ ও বিমা খরচ অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্ববাজারে এই জ্বালানি সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় শুক্রবার একযোগে আসরে নেমেছে শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট ‘জি৭’। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)-র মাধ্যমে আগামী চার মাস ধরে জরুরি মজুত থেকে ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ব্যারেল অশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

