কোচবিহার: সালিশি সভাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের শীতলকুচির (Coochbehar BJP Factional Conflict) বড় মরিচা এলাকা। সালিশি বৈঠক চলাকালীন বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সম্পাদক সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই বিজেপি নেতাকে প্রথমে শীতলকুচি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতলকুচির বড় মরিচা এলাকায় একটি সালিশি সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দলেই তীব্র কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। আহত বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সম্পাদক রেজ্জাক হোসেনের স্ত্রী মৌসুমী খাতুনের অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে কিছু মানুষের আসার খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা খোরশেদ আলম বা খোরশেদ মিয়ার লোকজন তাঁদের ওপর চড়াও হয়। এরপর বিচার করার নাম করে তাঁদের পার্টি অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে রেজ্জাক হোসেন ও তাঁর অনুগামীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় রেজ্জাক হোসেনের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত বিজেপি শক্তিপ্রমুখ খোরশেদ আলম পালটা দাবি করেছেন যে, ৪ তারিখের পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতাকর্মী স্থানীয় সমস্যাগুলি মেটানোর জন্য বাড়িতে বসে আলোচনা বা বিচার করে থাকেন। এদিন রাস্তার কাজ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু বাড়িতে বসে বিচার করা যাবে না বলে আপত্তি জানানো হলে রেজ্জাক হোসেন দলবল নিয়ে পার্টি অফিসে এসে হামলার চেষ্টা করেন। সেই সময় তাঁদের বাধা দিতে গেলেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
বিজেপির অন্দরে এই প্রকাশ্য কোন্দল ও মারামারির ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর উভয় পক্ষের তরফেই শীতলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে, তাতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের দিকে স্বাভাবিকভাবেই কটাক্ষের আঙুল তুলেছে।

