উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বুধবার দুপুরে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে রীতিমতো নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল। দীর্ঘ চার ঘণ্টা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে বেরোতেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ। দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা তছরুপের (Durga Puja VIP Cross Rip-off) অভিযোগেই তাকে পাকড়াও করে সোজা লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে পুলিশের (Kolkata Police) বিশাল বাহিনী মোতায়েন ছিল, যা দেখে প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর গ্রেপ্তারির জল্পনা আগেই জোরাল হয়েছিল।
সূত্রের খবর, দুর্নীতির শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ইউনেসকোর হেরিটেজ তকমা প্রাপ্তির পর দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক বিরাট প্রতারণা চক্রে। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’ ইউনেসকোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নিজেদের ইউনেসকো অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে প্রচার করে কলকাতার বাছাই করা ২৪টি মণ্ডপে ‘প্রিভিউ শো’ দেখার ব্যবস্থা করেছিল তারা। এই মর্মে দর্শনার্থীদের কাছে ১ হাজার ৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার ৪৯৯ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে টিকিট বিক্রি করা হয়। শুধুমাত্র ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেই এক লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ পরবর্তীতে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, টিকিট বিক্রির টাকা নগদে তুলে নেওয়া হয়েছে অথবা ভুয়ো খরচের হিসেব দেখিয়ে তা তছরুপ করা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তেই ছিলেন তৃণমূল মন্ত্রিসভার এই প্রাক্তন সদস্য। মমতার যেকোনও সভায় ইন্দ্রনীলের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। ফলে প্রশাসনের অন্দরেও তাঁর প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত।
গ্রেপ্তারির আগে এই দুর্নীতি মামলায় কলকাতা পুলিশ একাধিকবার ইন্দ্রনীলকে তলব করলেও তিনি প্রতিবারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি এর আগে দু’বার সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করেছিল। সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি এড়াতে ও আইনি রক্ষাকবচ পেতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন, যা সরাসরি খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শীর্ষ আদালত তাঁকে কোনও স্বস্তি দেয়নি। সব দিক থেকে আইনি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর, শেষমেশ বুধবার ইডির তলবে হাজিরা দিয়ে বেরোনোর পথেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী।

