Cooch Behar Madan Mohan Raas Mela | ২০০ বছরের ঐতিহ্য; কোচবিহারের মদনমোহনের ৩৪ ফুটের রাস চক্র বানিয়ে চলেছেন চতুর্থ প্রজন্মের আমিনুর হোসেন

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


কোচবিহার: ধর্মের গণ্ডী পেরিয়ে প্রকৃত সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে তুলেছে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন ঠাকুরের রাস উৎসব (Cooch Behar Madan Mohan Raas Mela)। রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে যে উৎসবের খ্যাতি বিশ্বজোড়া, সেই প্রধান আকর্ষণ ৩৪ ফুটের সুবিশাল ‘রাস চক্র’ নির্মাণের দায়িত্ব বংশপরম্পরায় পালন করে আসছে একটি মুসলিম পরিবার। দীর্ঘ ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যকে এবারও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত এক করে কাজ শুরু করেছেন আমিনুর হোসেন। চতুর্থ প্রজন্ম হিসেবে একটানা চার বছর ধরে এই পবিত্র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।

কোচবিহারের হরিণচওড়া এলাকায় তোর্সা নদীর তীরের বাড়িতে বসে বাঁশ, কাগজ, আঠা, সুতো ও নানা উপকরণ দিয়ে রাস চক্র বানানোর কাজ শুরু করেছেন আমিনুর হোসেন। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ নভেম্বর কোচবিহার মদনমোহন ঠাকুরবাড়িতে শুরু হতে চলেছে বিশ্ববিখ্যাত রাস উৎসব। ওই দিন রাত ৯টায় দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি তথা কোচবিহারের জেলাশাসক এই রাস চক্র ঘুরিয়েই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। সমস্ত ধর্মীয় আচার ও তিথি মেনে লক্ষ্মীপুজার দিন থেকেই নিরামিষ আহার গ্রহণ করে এই রাস চক্র তৈরির কাজ শুরু করেছেন আমিনুর। একমাস ধরে চলবে এর নির্মাণকাজ।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মহারাজা হরেন্দ্র নারায়ণের আমলে দু’শো বছরেরও বেশি সময় আগে ভেটাগুড়িতে মদনমোহনের রাস উৎসব শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ধলুয়াবাড়ি হয়ে ১৮৯০ সালে বর্তমান কোচবিহার মদনমোহন ঠাকুরবাড়ি তৈরি হওয়ার পর থেকে এখানেই রাস উৎসব স্থায়ী রূপ নেয়। সেই শুরু থেকেই আমিনুরের পূর্বপুরুষ—তাঁর দাদুর বাবা পান মহম্মদ মিয়াঁ এই রাস চক্র তৈরি করে আসছেন। এরপর তাঁর বাবা আলতাফ মিয়াঁ এবং বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্ম হিসেবে গত চার বছর ধরে এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন আমিনুর হোসেন।

পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এই ধারা টিকিয়ে রাখা নিয়ে আমিনুর হোসেন বলেন, “বড় একটি দায়িত্ব, তাই সমস্ত নিয়ম মেনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে রাস চক্র বানানোর চেষ্টা করছি। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখারও চেষ্টা চালাচ্ছি। তিথি ও নিয়ম মেনে আজ থেকে সম্পূর্ণ নিরামিষ খেয়ে কাজ শুরু করেছি।” তবে বর্তমান বাজারে কাজের যে পারিশ্রমিক বা মূল্য মেলে, তাতে ভবিষ্যতে এই প্রাচীন শিল্প ও বংশপরম্পরার ধারা টিকিয়ে রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপের সুরও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।

সব মিলিয়ে, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে কোচবিহারের রাস উৎসব আজও হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল ও জীবন্ত দলিল হয়ে রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *