শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: শরীর সুস্থ রাখতে যোগাসনের বিকল্প নেই। এবার কোচবিহার (Cooch Behar) জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বোকালিরমঠ ও মরাডাঙ্গায় দুটি যোগ প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে ১২ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রিকুমার আড়ি এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘যোগাসনের মাধ্যমে অনেক রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। আমরা সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় যোগাসনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই প্রবণতা বাড়াতে আরও বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
কোচবিহার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আয়ুষ বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ৩০টি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন যোগাসনের প্রশিক্ষণ (Yoga Coaching) দেওয়া হয়। সেখানে এই মুহূর্তে ৪৮ জন প্রশিক্ষক রয়েছেন। নতুন দুটি কেন্দ্রের জন্য আরও ১২ জনকে নিয়োগ করা হবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে মোট ২২২৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কোন কোন যোগাসন করলে কী কী রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও প্রশিক্ষকরা আলোচনা করেন। আয়ুষ বিভাগের জেলা মেডিকেল অফিসার প্রশান্ত কয়াল বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যদি নিয়মিত যোগাসন করেন, তাহলে রোগ কম হবে। শুধু তাই নয়, বহু রোগী যোগাসন করে সুস্থ হয়েছেন। তাই আমরা যোগাসনের প্রসার আরও বাড়াতে চাইছি।’
চিকিৎসকরা বলেন, যোগাসন মানেই কেবল শরীরচর্চা নয়, এটি শরীর ও মনের সমন্বয়সাধনের একটি প্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। নিয়মিত যোগাসন করলে শরীর ও মন দুই-ই সুস্থ থাকে। যোগাসন শরীরের পেশি ও জয়েন্টগুলোকে সচল রাখে, ফলে শরীর অনেক বেশি নমনীয় ও কর্মক্ষম হয়। সঙ্গে মানসিক চাপ কমায় ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। যোগাসনের ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায়, যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা বাড়ায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এছাড়াও ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস স্বাভাবিক রাখা, পিঠ ও কোমরের ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও বদহজম দূর করা সহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে যোগাসনের জুড়ি মেলা ভার।
স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি যোগাসন করলে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক সহজ হয়। তবে শুধু অসুস্থ ব্যক্তিরাই নন, সুস্থ স্বাভাবিক যে কোনও মানুষ যেন যোগাসন প্রশিক্ষণে অংশ নেন, তা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
