Cooch Behar | রবির পদ ও প্রার্থী হওয়া নিয়ে গুঞ্জন কোচবিহারে 

Cooch Behar | রবির পদ ও প্রার্থী হওয়া নিয়ে গুঞ্জন কোচবিহারে 

শিক্ষা
Spread the love


গৌরহরি দাস, কোচবিহার: জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh) ও পার্থপ্রতিম রায় (Partha Pratim Ray)। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে (Cooch Behar) ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রবি ও পার্থকে তিনটি করে মোট ছয়টি কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন বাদে দল তাঁদের দায়িত্ব দেওয়ায় খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে তাঁদের অনুগামীদের বিশেষ করে রবির অনুগামীদের মধ্যে। যদিও আবাহনের মধ্যে আবার বিসর্জনের ঢাকও গুড়গুড় বাজতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে রবির অনুগামীদের একাংশের মধ্যেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি এবার কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ খোয়াতে চলেছেন রবি? পাশাপাশি অনেকের মধ্যে এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে যে তাহলে কি বিধানসভা নির্বাচনে রবি ও পার্থ টিকিট পাচ্ছেন না?

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘বিধানসভার টিকিটের বিষয়ে দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দল যেটা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমরা মেনে নেব। আমাদের মূল লক্ষ্য জেলায় নয়ে নয় করে দিদির হাতে তুলে দেওয়া।’

রবি-পার্থ গোষ্ঠীর সঙ্গে দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, মন্ত্রী উদয়ন গুহ ও সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার গোষ্ঠীর কোন্দল জেলায় কারও অজানা নয়। একেই জেলায় দলীয় কোনও পদ নেই, তার উপর দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কোন্দলে জড়িয়ে যাওয়ায় কোচবিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই কোণঠাসা হয়েছিলেন রবি ও পার্থ। এই অবস্থায় নির্বাচন উপলক্ষ্যে নতুন করে জেলার ছয়টি বিধানসভার কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব তাঁদের দেওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন তাঁদের অনুগামীদের অনেকে। তাঁদের আশঙ্কা, একজনের পক্ষে তিনটি করে বিধানসভার কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব সামলানো যথেষ্ট বড় কাজ। এর জন্য বিধানসভাগুলিতে তাঁদের যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে হবে। আর এতেই প্রশ্ন উঠেছে যে তাহলে সেসব কাজ সামলে তারপর পুরসভার দায়িত্ব তিনি কীভাবে সামলাবেন? তাহলে কি তিনি নিজে না সরায় দলের রাজ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের এই দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেবে? আবার বিভিন্ন মহলে এও প্রশ্ন উঠেছে যে, রবি-পার্থ সম্ভবত বিধানসভার টিকিট পাচ্ছেন না। তাঁদের মতে, রবি ও পার্থ দুজনকেই নির্বাচনে তিনটি করে বিধানসভার কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব দল দিয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনে এই তিনটি বিধানসভার বিভিন্ন কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করা সহ ভোটের ভালোমন্দের দায়িত্ব মূলত তাঁদের উপর থাকবে। সেই জায়গায় যদি তাঁদের বিধানসভার টিকিট দেওয়া হয় তাহলে তাঁদের পক্ষে বাকি বিধানসভাগুলির দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করা সম্ভব হয়ে উঠবে না।

যদিও এই দায়িত্বের সঙ্গে বিধানসভার টিকিট পাওয়া-না পাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই মনে করেন রবির অনুগামীদের একাংশ। এ বিষয়ে তাঁদের মত, তাই যদি হয় তাহলে তো দলের জেলা সভাপতি গোটা জেলার নয়টি বিধানসভার দায়িত্বেই রয়েছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গোটা উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে রয়েছেন। সাংসদ গোটা জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে মন্ত্রী ও জেলা সভাপতি যদি এত দায়িত্ব সামলে টিকিট পেতে পারেন, তাহলে রবি-পার্থর টিকিট পাওয়া নিয়ে অসুবিধা কোথায়? পাশাপাশি এত দায়িত্ব সামলে সাংসদ যদি তিনটি বিধানসভার কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব সামলাতে পারেন, তাহলে ওঁরা কেন পারবেন না?

যদিও রবির এক ঘনিষ্ঠ অনুগামী জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান পদ সম্ভবত রবির আর বেশিদিন থাকছে না। এমনও হতে পারে রবি নিজেও সেই পদ ছেড়ে দিতে পারেন।

রবির চেয়ারম্যান পদ গেলেও এর ফলে বিধানসভার টিকিট পেতে কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন রবি-বিরোধী জেলায় দলের অন্যতম এক শীর্ষ নেতা। তাঁর কথায়, রবি-পার্থর মতো তালিকায় বেচারাম মান্না, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কৃষ্ণ কল্যাণী সহ এমন বিভিন্ন নেতার নাম রয়েছে। ফলে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটা কোনও সমস্যা নয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *