তুফানগঞ্জ: একটি পুরসভা ও ২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের অন্যতম ভরসা তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, নিম্ন অসম এলাকার বহু মানুষও এই হাসপাতালের ল্যাব পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে সবরকম পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় রোগী ও আত্মীয়রা পড়ছেন চরম সমস্যায়। আর সেই সুযোগেই রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে শহরের বেসরকারি ল্যাবগুলি।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ইসিজি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্ত পরীক্ষার মতো কিছু পরিষেবা থাকলেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার পরিকাঠামোই নেই। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি ল্যাবে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন যে, ল্যাবগুলিতে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাতেই যানবাহন দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে তাঁদের। শনিবার সুদূর ধুবড়ি থেকে শাশুড়ির আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে এসেছিলেন তপন দাস। অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর রিপোর্ট হাতে পান তিনি। তপনের আক্ষেপ, ‘হাসপাতালে যদি আরও কিছু পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হত, তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষের সুবিধা হত।’ একই পরিস্থিতির মুখোমুখি বক্সিরহাটের সঞ্জয় বর্মনও। বাবার থাইরয়েড পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন তিনি। তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘রিপোর্ট ছাড়া ডাক্তাররা রোগী দেখতে চান না। অথচ হাসপাতালে থাইরয়েড টেস্টের কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে পরীক্ষা করাতে হয়। কিন্তু বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য সকলের থাকে না।’
এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বহু মানুষ। সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল চালু হলেও এখানকার বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা এখনও কার্যকর হয়নি। ফলে বেসরকারি ল্যাবগুলিতে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর তা সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এবিষয়ে কোচবিহার ল্যাব ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি পরিমল দাসের বক্তব্য, ‘ধরুন, কোনও সাপের ছোবল খাওয়া রোগী সন্ধেবেলা ভর্তি হলেন, তখন সরকারি ল্যাব বন্ধ থাকে। তাই বাধ্য হয়েই বেসরকারি ল্যাবে যেতে হয়।’
এদিকে রোগীদের এই হয়রানিকে হাতিয়ার করে তোপ দেগেছে রাজনৈতিক দলগুলিও। বিজেপি জেলা সহ সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি বসাকের অভিযোগ, ‘হাসপাতালের সঙ্গে বেসরকারি ল্যাবগুলির যোগসাজশ রয়েছে। তাই পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আসলে মুনাফা লাভের আশায় রোগীদের বাইরের দোকানে পাঠানোই তাদের মূল লক্ষ্য।’
সরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে এই দুরবস্থা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
