কোচবিহার: এক উৎসব পেরোতেই আরেক উৎসবের প্রস্ততি। কালীপুজো এবং দীপাবলি মিটতেই কোচবিহারের মদনমোহনবাড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছে জগদ্ধাত্রীপুজোর প্রস্তুতি। রাজ আমলের রীতি ও পরম্পরা মেনে ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় অধিবাসপুজোর মধ্যে দিয়ে মদনমোহন মন্দিরে জগদ্ধাত্রীপুজো শুরু হবে। তার আগে জোরদকমে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। বংশপরম্পরায় এই প্রতিমা গড়ছেন শৌভিক পাল। পুজো প্রস্তুতির বিষয়ে দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের সচিব পবিত্রা লামা বলেন, ‘আমরা জগদ্ধাত্রীপুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। রীতি মেনে প্রতিবারের মতো এবারেও পুজোর আয়োজন চলছে।’ যা নিয়ে শহরাবাসীও বেশ উৎসাহিত। কারণ, দীপাবলির পর জগদ্ধাত্রীপুজোর মধ্যে দিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন কোচবিহারবাসী।
দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর পুজোর বাজেট ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। রাজ আমল থেকে হয়ে আসা এই পুজোয় বলি দেওয়ারও রীতি রয়েছে। বুধবার ২৯ আক্টোবর সপ্তমীর সকালে কাঠামিয়া মন্দিরে বিশেষ পুজো হবে। সেখানে পঞ্চব্যঞ্জন ভোগ এবং জোড়া পায়রা বলি দেওয়া হবে। পুজোর তিনদিন হবে যজ্ঞ। সন্ধ্যায় নিয়ম মেনে হবে সন্ধ্যারতি। অষ্টমীর দিনও কাঠামিয়া মন্দিরে পুজোর পর জোড়া পায়রা বলি দেওয়া হবে। ওই দিন বড়োদেবীর মন্দিরে বামাপুজো হবে। সেদিন সকালে মদনমোহন মন্দির থেকে দেবীবাড়ির মন্দিরে হনুমানদণ্ড নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পুজো ও ভোগের পর হনুমানদণ্ডটি ফের কাঠামিয়া মন্দিরে ফেরত নিয়ে আসা হবে।
নবমীর দিন মন্দিরে ত্রয়োকালীন পুজো হবে। নবমীর বিশেষ পুজোয় পাঁঠা, পায়রা ও মাগুর মাছ বলি দেওয়া হবে। কেবলমাত্র দুপুরের পুজোর পর সেখানে অন্নভোগ দেওয়া হবে। সেদিন মধ্যাহ্নে বিশেষ পুজোর পর ৬ জন ব্রাহ্মণ এবং ১ জন কুমারীকে ভোজন করানো হয়। এবছর এই পুজো করবেন মন্দিরের পুরোহিত খগপতি মিশ্র। প্রতিদিনই দেবীর ভোগ হিসেবে থাকে খিচুড়ি, অন্ন, পঞ্চব্যঞ্জন, ফলমূল, পায়েস, লুচি এবং মিষ্টি। দশমীর সকালে বিশেষ পুজোর পর ঘট বিসর্জন দেওয়া হবে। বিকেলে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হবে।
ফলে সব মিলিয়ে দীপাবলির পর এবার মদনমোহন মন্দিরের জগদ্ধাত্রীপুজো ঘিরে উৎসবের আমেজে ফিরতে চলেছেন কোচবিহারবাসী।
