নয়ারহাট: এলাকা জঞ্জালমুক্ত করতে প্রায় দুই বছর আগে নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, নয়ারহাট বাজার সহ বিভিন্ন বুথ এলাকা থেকে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে সেখানে আনা হবে। ঘটা করে এর উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু টানা ছয় মাস ধরে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। পরিকাঠামোটি এমনি পড়ে থাকায় সরকারি অর্থে তৈরি প্রকল্প কার্যত নষ্ট হচ্ছে। ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাই দ্রুত প্রকল্পটি ফের চালু করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। এনিয়ে অবশ্য মাথাভাঙ্গা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজিবুল হাসান বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
গত বছর জানুয়ারি মাসে নয়ারহাটের খাগড়িবাড়ির সুটুঙ্গা নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি তৈরি হয়েছিল। কোচবিহার জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে ও নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। খরচ হয় প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা। এমনকি সেখানে শৌচাগার, সৌরবিদ্যুৎচালিত পানীয় জলের ট্যাংকও রয়েছে। প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর থেকে কিছুদিন বেশ ভালোই চলছিল। সংগৃহীত বর্জ্য টোটোয় করে নিয়ে গিয়ে সেখানে ফেলা হত। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ। হঠাৎ করে কেন প্রকল্পটি বন্ধ হল তা অবশ্য স্থানীয়দের কেউ জানেন না। এলাকার বাসিন্দা গিরীন্দ্র বর্মনের বক্তব্য, ‘কেন আবর্জনা ফেলা হয় না জানি না। কয়েক মাস ধরে প্রকল্পটি বন্ধই রয়েছে।’
প্রফুল্ল বর্মন নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বর্ষার সময় থেকেই আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’ তবে নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাম্পি বর্মনের এব্যাপারে বক্তব্য, ‘বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে যাওয়ার পথে স্থানীয় উপনী নদীর ওপর একটি দুর্বল কাঠের সেতু রয়েছে। ওই সেতুর ওপর দিয়ে আবর্জনাবোঝাই টোটো নিয়ে যাতায়াত করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কয়েক মাস আগে থেকে আবর্জনা ফেলা বন্ধ রয়েছে।’ তবে শিমুলগুড়িতে উপনী নদীর ওপর কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। কবে সেতুটি সংস্কার করা হবে বা নতুন সেতু তৈরি হবে তা বলা যায় না। প্রশ্ন উঠছে, সেতুটি দুর্বল জানা সত্ত্বেও নদী পেরিয়ে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল কেন?
