নয়ারহাট : এ যেন চিটফান্ডের ধাঁচে প্রতারণার নয়া ছক। একটি বেসরকারি সংস্থার জেলা ইনচার্জের পরিচয় দিয়ে অঞ্চল ও ব্লক স্তরে কর্মী নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমে লোন দেওয়ার নাম করে প্রসেসিং ফি বাবদ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের দুয়াইসুয়াই এলাকার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সেই টাকা ফেরতের দাবিতে অঞ্চল ও ব্লক স্তরের কর্মী, উপভোক্তা সহ বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত গণেশ বর্মনের বাড়িতে ধর্নায় বসেন। যদিও দীর্ঘক্ষণ হত্যে দিয়ে বসে থাকার পরও তাঁরা অভিযুক্তের দেখা পাননি। দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়া না হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এদিন ফোনে অভিযুক্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিন টাকা ফেরতের দাবিতে ওই বাড়ির সামনে হাজির ছিলেন সিতাইয়ের বীথিকা বর্মন ও সুব্রত বর্মন, দেওয়ানহাটের রুবাই দে, পখিহাগার ভোলা রায় ও শ্রীমন্ত দাস সহ অন্তত ১৫ জন। বীথিকার বক্তব্য, ‘আমি ওই বেসরকারি সংস্থার ভিলেজ ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছি। আমার কাজ ছিল, সংস্থা থেকে সাধারণ মানুষকে লোন পাইয়ে দেওয়া। ১০ হাজার টাকা লোনের জন্য ১২২০, এক লক্ষ টাকা লোনের জন্য ছয় হাজার ও দুই লক্ষ টাকা লোনের জন্য ১২ হাজার টাকা করে প্রসেসিং ফি আদায় করে সংস্থাকে জমা দেওয়া। সরল মনে এলাকার অনেকেই প্রসেসিং ফি জমা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কেউই লোন পাননি। এরপর প্রসেসিং ফি ফেরত চাওয়া হলেও টালবাহানা করা হয়। সাধারণ মানুষের চাপে আমি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।’ এদিন তাই ওই টাকা ফেরতের দাবিতেই তিনি দুয়াইসুয়াই এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে এসেছেন। একই অভিযোগ দেওয়ানহাটের রুবাই দে’রও। তাঁর সংযোজন, তিনিও ওই সংস্থার কর্মী হিসেবে কাজ করেন। লোনের জন্য ৮০ জনের কাছ থেকে প্রসেসিং ফি নিয়ে তিনি সংস্থায় জমা করেছেন। কিন্তু কেউ লোন না পাওয়ায় এলাকার মানুষ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করছেন। তিনি বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাই তিনিও টাকা ফেরতের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে এসেছেন।
সূত্রের খবর, একটি বেসরকারি সংস্থার জেলা ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মী নিয়োগ করে প্রতারণার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ। মাসিক বেতনের টোপ দিয়ে অঞ্চল ও ব্লক ইনচার্জ নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমেই লোনের নামে প্রসেসিং ফি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও অঞ্চল ও ব্লক ইনচার্জদের কেউই কোনও বেতন না পাওয়ায় এবং সাধারণ মানুষও লোন না পাওয়ায় কর্মীদের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে প্রসেসিং ফি ফেরত চাওয়া হলে টালবাহানা শুরু হওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের একাংশ জোট বেঁধে এদিন অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেন।

