শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: আদর্শ কর্মী ও দক্ষ নেতা তৈরির পাঠশালাতে শুরুতেই জোর ধাক্কা খেল শাসকদল বিজেপি (BJP)। মাসদুয়েক আগেই কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার মণ্ডল স্তরের নেতাদের হাতেকলমে দলীয় অনুশাসন ও নেতৃত্বের পাঠ পড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণের সারমর্ম যে নীচুতলার নেতাদের মগজে আদৌ ঢোকেনি, জেলায় একের পর এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ও অনাচারের অভিযোগে তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। বুধবার কোচবিহার শহরের রবীন্দ্র ভবনে দলের মূল পর্বের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে কার্যত সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটল। দিনহাটা থেকে শীতলকুচি, জেলাজুড়ে নীচুস্তরের একাংশ নেতার দলবিরোধী কাজকর্ম ও তোলা আদায়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি।
দু’দিনের এই প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন দলের কোচবিহার জেলার ইনচার্জ মনোজ টিগ্গা, দুই মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও মালতী রাভা রায়, জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন সহ জেলার বিধায়ক ও রাজ্য স্তরের শীর্ষ নেতারা। দলীয় সূত্রে খবর, বন্ধ দরজার বৈঠকে স্থানীয় নেতাদের চালচলন ও কার্যকলাপে রাজ্য নেতৃত্ব যে একেবারেই সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। একসময়ের বিরোধী দল বিজেপি এখন রাজ্যে শাসকের আসনে বসলেও নীচুতলার বহু নেতার মানসিকতায় তার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ক্ষমতার দম্ভে বহু এলাকায় নেতারা নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন, কোথাও আবার তোলাবাজি ও অসামাজিক কার্যকলাপে দলের নাম জড়াচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শিবির থেকে রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দেন, শাসকদল হয়ে ওঠার পর মানুষের সঙ্গে কী ধরনের নম্র আচরণ করতে হবে এবং কীভাবে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে হবে, তা নেতাদের শিখতেই হবে। তোলাবাজি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নাম জড়ালে রেয়াত করা হবে না কাউকেই। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে দ্রুত নিবিড় জনসংযোগ বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি মণ্ডল ও বুথ স্তরের কার্যকর্তাদের।
যদিও বৈঠকের অন্দরের তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে এড়িয়ে গিয়েছেন জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, ‘কোচবিহার জেলায় দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে। দক্ষ, আদর্শ ও একনিষ্ঠ কার্যকর্তা তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি যাতে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর কোচবিহার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দলের রাশ টানতে বারবার হিমসিম খেতে হচ্ছে বিজেপিকে। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে শীর্ষ নেতৃত্ব যে সতর্কবার্তা দিলেন, তাতে নীচুতলার নেতাদের আচরণে আদৌ কতটা রাশ টানা যাবে, সেটাই এখন দেখার।

