শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত, মাঠের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই খাবারের স্টল। মেলাজুড়ে ঘাঁটি গেড়েছে একাধিক বড় ব্র্যান্ডের স্টল (Cooch Behar)। তেমনই মাঠের কোনায় ছোট্ট টেবিলে দোকান সাজিয়েছেন কেউ। বড় রেস্তোরাঁর অন্দরে রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি। ছোট্ট দোকানের কড়াইয়ে তখন গরম তেলে চটপট ভাজা চলছে বেগুনি। মেলায় আসা হাজার হাজার দর্শক সেইসবেই পেটপুজো করছেন। কিন্তু হাইজিন! এই খাবারের দোকানগুলিতে কি স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুরসভার নিয়মিত নজরদারি আছে? মেলা ঘুরে ধরা পড়েছে এমনই ছবি। সেই সুযোগে কোনও দোকান পুরোনো তেলেই ভাজাভুজির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, কোনও কোনও স্টলের খাবারে মেশানো হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ফুডকালার। খিদের পেটে সেসব অমৃত লাগলেও আখেরে চিন্তা বাড়াচ্ছে এইগুলি।
যদিও নজরদারির খামতির কথা মানতে চাননি পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর কথা, ‘আমাদের পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা নিয়মিত খাবারের দোকানগুলিতে নজর রাখছেন।’ মেলা চত্বরে পুরসভা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দুই দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রতিদিনই খাবারের দোকানগুলিতে নিয়ে গুণগতমান খতিয়ে দেখবেন। খাতায়কলমে সেই কাজ হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এমজেএন স্টেডিয়ামে থাকা একটি রেস্তোরাঁর কর্মীর কথায়, ‘আমাদের রেস্তোরাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাই সকলে আমাদের ভরসা করে এখানে খাবার খেতে আসেন। আমরা ভেজাল খাবার বিক্রি করি না। তবে এটাও ঠিক, অন্যান্য কারণে পুরসভার আধিকারিকরা এলেও খাবারের গুণগতমান পরীক্ষা করতে কেউ আসেননি।’
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রিকুমার আরির কথায়, ‘আমাদের ফুড সেফটি বিভাগের আধিকারিকরা মেলায় খাবারের দোকান পরিদর্শন করছেন। ভেজাল কিছু সন্দেহ হলে নমুনা সংগ্রহ করার কথা। যদিও এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।’
মেলায় বেড়াতে এসে ভেলপুরি খাচ্ছিলেন সঞ্জীব ধর। তাঁর কথায়, ‘ভেলপুরি খেলাম ঠিকই, কিন্তু যে তেলে ভাজা হচ্ছে তার রং দেখে মনে হচ্ছে সেই তেলেই অনেকবার ভাজা চলছে। তবে আমি তো আর বিশেষজ্ঞ নই। সরকারি আধিকারিকদের উচিত নিয়মিত নজরদারি রাখা, যাতে কেউ ভেজাল কিছু ব্যবহার করতে না পারে।’
কথা হচ্ছিল চিকিৎসক বিশ্বপ্রিয় সিনহার সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘সাধারণত খোলা জায়গার খাবার এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে যাঁরা খাবার বিক্রি করছেন তাঁদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভের কথা ভেবে পুরোনো ব্যবহার করা তেল, ভেজাল ফুডকালার বা এই সংক্রান্ত কিছু খাবারে ব্যবহার করা ঠিক নয়। খাবার খাওয়ার আগে ক্রেতাদেরও এগুলি দেখে নিতে হবে। কারণ ভেজাল খাবার খেলে পেটের অসুখ সহ নানা সমস্যা হতে পারে।’
ভেলপুরি খেলাম ঠিকই, কিন্তু যে তেলে ভাজা হচ্ছে তার রং দেখে মনে হচ্ছে সেই তেলেই অনেকবার ভাজা চলছে। তবে আমি তো আর বিশেষজ্ঞ নই। সরকারি আধিকারিকদের উচিত নিয়মিত নজরদারি রাখা, যাতে কেউ ভেজাল কিছু ব্যবহার করতে না পারে।
