জয়দীপ রায়, কোচবিহার: ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের উত্তাপ এসে পৌঁছেছে কোচবিহারেও (Cooch Behar)। ফুটবল মহাযুদ্ধ ঘিরে এখন রাজার শহর কোচবিহারে চরম উন্মাদনা। চায়ের ঠেক থেকে পাড়ার মোড়, সর্বত্রই চলছে জোর আলোচনা। কে হাসবে শেষ হাসি, তা নিয়ে তর্ক জুড়ে দু’ভাগে বিভক্ত স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা। শহরের সর্বত্র এখন স্পেন এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোচবিহারের ফুটবলপ্রেমীরা। পাড়ার মোড়, ক্লাবঘর থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। শুধু মূল শহর নয়, শহরতলির সাধারণ মানুষের মধ্যেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। মোড়ে মোড়ে এবং ক্লাবঘরের বাইরে লাগানো হচ্ছে প্রিয় খেলোয়াড়দের বিশাল কাটআউট।
এই ফুটবল মহাযুদ্ধের আগে স্থানীয় বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের জার্সি। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঝুলছে দুই দলের পতাকা। স্থানীয় খেলার সরঞ্জাম বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হওয়ায় দুই দলের জার্সি ও পতাকার চাহিদা প্রচুর। তবে এবারের বিশ্বকাপের মরশুমে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে আর্জেন্টিনার জার্সির বিক্রিই সবচেয়ে বেশি।
শহরের ক্লাবঘরগুলোতে এখন রাত জেগে খেলা দেখার জোর প্রস্তুতি। কোচবিহার শহরের ‘নিউটাউন ইউনিট’ খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। ক্লাবের সদস্য অভিষেক সিংহ রায় বলেন, ‘আমরা বাইরে প্রিয় খেলোয়াড় মেসির বড় ব্যানার লাগিয়েছি। ক্লাবঘরের ভেতর এলাকার সবাই মিলে একসঙ্গে যাতে খেলা দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০-১৫টি জার্সি কেনা হয়েছে। সবাই মিলে সেগুলো পরে প্রিয় দল আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করব। পাশাপাশি একটা পিকনিক করারও পরিকল্পনা রয়েছে।’
শহরের আরেক মেসি-ভক্ত দেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘েপ্রাজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার ব্যবস্থা করছি। জায়গাটা আমরা নিজেদের মতো করে একটু সাজিয়ে নিচ্ছি। দু’পাশে খেলোয়াড়দের কাটআউট লাগানো থাকবে। সেখানে বসেই এলাকার সবাই মিলে খেলা দেখব।’
উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই স্পেনের সমর্থকরাও। শহরের বাসিন্দা যোগেশ সরকার বলেন, ‘স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে খুব ভালো খেলেছে। পরপর গোল হয়েছে। ফাইনালেও আমরা দারুণ কিছু আশা করছি। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে উন্মাদনা বেশি থাকলেও, শেষপর্যন্ত স্পেনই জিতবে।’
শহরের পাশাপাশি শহরতলির সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে সমান উন্মাদনা। শহরতলির ‘কিশোর সংঘ’ ক্লাবের বাইরেও লাগানো হয়েছে খেলোয়াড়দের ছবি। সেখানেও চলছে রাত জেগে খেলা দেখার আয়োজন। টাকাগাছ এলাকার তরুণ শুভজিৎ সেন বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই রাত জেগে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখছি। এটা আমার কাছে একটা নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। পাড়ার মোড়ে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

