কোচবিহার: খাগড়াবাড়ি চৌপথি এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির গলার হার ও আংটি হাতিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই অভিনব প্রতারণার জেরে রীতিমতো আতঙ্কিত কোচবিহারের (Cooch Behar) সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার সকালে কোচবিহার-শিলিগুড়ি হাইরোড দিয়ে ব্যাংকের কাজে যাচ্ছিলেন নাট্যসংঘ এলাকার বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ইঞ্জিনিয়ার গৌরাঙ্গ চৌধুরী। আচমকাই একটি মোটরবাইকে দুজন হিন্দিভাষী ব্যক্তি তাঁর পথ আটকায়। নিজেদের পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা রীতিমতো ধমকের সুরে গৌরাঙ্গবাবুকে বলে, ‘গতকাল রাতেই এখানে ছিনতাই হয়েছে। আর এই অবস্থায় আপনি সোনার জিনিস পরে রাস্তায় বেরিয়েছেন। এগুলি এখনই পকেটে রাখুন।’
ভয় পেয়ে গৌরাঙ্গবাবু গয়না খুলতেই দুষ্কৃতীরা সাহায্যের নামে এগিয়ে আসে। তারা একটি সাদা কাগজ ও রুমাল বের করে দেয়। গয়না রুমালে মোড়ানোর সময় অত্যন্ত সুকৌশলে (Sleight of hand) তারা আসল গয়নাটি সরিয়ে নেয় এবং ফাঁকা রুমালটি গৌরাঙ্গবাবুর পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়ে।
ঘটনা প্রসঙ্গে গৌরাঙ্গবাবু বলেন, “ওরা এমনভাবে রাগ দেখাচ্ছিল এবং গতকাল রাতের ছিনতাইয়ের গল্প ফাঁদছিল যে, আমি বুঝতেই পারিনি এরা আসলে প্রতারক। ওরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পকেট থেকে রুমাল খুলে দেখি ভেতরে কোনো গয়না নেই, সব গায়েব!”
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি পুণ্ডিবাড়ি থানার দ্বারস্থ হন তিনি। পুলিশ অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত বাইকের নম্বর প্লেটটিও ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো। বর্তমানে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এলাকার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খোদ পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় শহরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এই ভুয়ো পুলিশদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

