দিনহাটা: এসআইআর (SIR) আতঙ্কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। এবার কোচবিহারের (Cooch Behar) দিনহাটা (Dinhata) ওকড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ো ফলিমারী এলাকায় প্রাণ হারালেন সুভাষ চন্দ্র বর্মন (৪৫) নামে এক গৃহশিক্ষক। নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলার চরম আশঙ্কাই এই অকালমৃত্যুর কারণ বলে দাবি করছে তাঁর পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনার বিবরণ: পেশায় গৃহশিক্ষক সুভাষের নিজের নথিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। সমস্যা ছিল তাঁর স্ত্রীর ২০০২ সালের একটি নথিতে, যেখানে বাবার নামের জায়গায় ভুলবশত দাদার নাম উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই এই ‘সামান্য ভুল’ নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন সুভাষ। তাঁর ভয় ছিল, এই প্রশাসনিক জটিলতার জেরে হয়তো স্ত্রীকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে (পুশব্যাক) অথবা তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। সোমবার রাত তিনটে নাগাদ হঠাৎই ঘর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবার ও বিএলও-র বয়ান: মৃতের বাবা শচীন চন্দ্র বর্মন বলেন, “ছেলে সারাক্ষণ নথির ভুল নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। বলত, ভুল সংশোধনে দেরি হলে বিচ্ছেদ হয়ে যেতে পারে। তখন দুই সন্তানের কী হবে? এই ভাবনা থেকেই ও এমন কাজ করল।” সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও মৌসুমী পারভিন জানান, ভুলটি অত্যন্ত সামান্য ছিল এবং সেটি সংশোধনও করে দেওয়া হয়েছিল। সুভাষকে আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও তিনি মানসিক ট্রমা থেকে বেরোতে পারেননি।
কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন সাংসদ: খবর পেয়েই মৃতের বাড়িতে যান কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (Jagadish Chandra Barma Basunia)। তিনি এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। সাংসদ বলেন, “এসআইআর নিয়ে অহেতুক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের ভুলেই প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।” তিনি আরও জানান, আগামী ১৩ জানুয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার সফরের সময় মৃতের স্ত্রীকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হবে।
