কোচবিহার: বর্তমান সময়ে বিয়েতে নজর কাড়ছে হাতে তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম। হাতে নকশা করা গাছকৌটো কিংবা কলকা আঁকা পানপাতা, অথবা হাতে আঁকা পাঞ্জাবি— আধুনিক সময়ে এগুলিই আকর্ষণের মুখ হয়ে উঠছে। চাহিদাও প্রচুর। প্রায় প্রতিটি বিয়েবাড়িতেই হাতে আঁকা গাছকৌটো এবং নকশা আঁকা পান পাতা এখন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে রাজ্যের বাইরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এর চাহিদা। যা থেকে তৈরি হতে শুরু করেছে কর্মসংস্থান। মন টানার পাশাপাশি হাতের কাজের এসব সূক্ষ্ম শিল্প জেলাজুড়ে বিয়েবাড়িগুলিতে চোখও টানছে। জনাকয়েক তরুণ-তরুণী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি করেছে আয়ের ঠিকানা। তারপর তাঁদের হাতে বানানো এইসব নকশা ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।
কোচবিহারের নিউটাউনের বাসিন্দা সোনালি রায় কর্মকার। গত কয়েক বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রথমে তত্ত্ব সাজানোর জিনিসপত্র তৈরির পাশাপাশি নিজের তুলির গুণে একের পর এক নকশা আঁকা জিনিস তৈরি শুরু করেন। বিয়ের মরশুমে লক্ষাধিক টাকা আয় হয় তাঁর। সোনালির কথায়, ‘শখের বশে এই কাজ শুরু করেছিলাম। এখন এটি একটি আয়ের ঠিকানা হয়ে উঠেছে আমার। জেলার বাইরেও বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার কাছে অর্ডার আসে।’
হাতে তৈরি এই জিনিসগুলির একেকটার দাম একেকরকম। নিজের পছন্দমতো ডিজাইনে আঁকা গাছকৌটো ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। নকশা আঁকা বিয়ের পিঁড়ি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। কলকা সাজানো পান পাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। হাতে আঁকা পাঞ্জাবি ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বছর ২৫-এর কলতান চক্রবর্তী বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রথম প্রথম যখন শুরু করেছিলাম তখনই বিয়ের মরশুমে কুড়ি-পঁচিশ হাজার টাকা আয় হত। এই জিনিসের প্রচুর চাহিদা। আমার সঙ্গে তিনজনকে সহযোগী হিসেবে নিয়েছি। বিয়ের মরশুম এবং সারাবছর মিলিয়ে আমার কয়েক লক্ষ টাকা আয় হয়।’
এই শিল্প শুধু জেলা বা রাজ্যে সীমিত নয়। ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের বাইরেও। কোচবিহারের রাজারহাটের তরুণ আমন সেনের বক্তব্য, ‘বেঙ্গালুরু, কলকাতা এমনকি হায়দরাবাদ থেকেও আমার কাজের অর্ডার এসেছে। সব ধরনের আঁকার কাজ নিজের হাতেই করি।’
সদ্য বিয়ের পিঁড়িতে বসা কাকলি বিশ্বাসের অনুভূতি, ‘এখন এসবই ট্রেন্ডিং জিনিস। সুন্দর ছবি আঁকা গাছকৌটো হাতে নিয়ে বিয়ের দিন ছবি তোলাই এখন ফ্যাশন। আমার বিয়েতে আমিও ছবি তুলেছি। আমাদের মা-কাকিমাদের সময় এগুলি সাধারণভাবে ব্যবহার হত বলে ভেঙে গিয়ে নয়তো ধুলো পড়ে গিয়েছে। এভাবে নকশা করায় জিনিসগুলি অনেক মজবুত হয়। ফলে যত্ন করে সাজিয়েও রাখতে পারব বহু বছর।’
The put up Cooch Behar | নকশার বিয়ের সামগ্রীতে আয়ের দিশা! স্মৃতি অমলিন appeared first on Uttarbanga Sambad.
