শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: কোচবিহার (Cooch Behar) বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে মরা তোর্ষার ওপর কালভার্ট তৈরি করা হবে বলে জানালেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক (Nisith Pramanik)। প্রয়োজনে বিমানবন্দর (airport) তৈরীর জন্য বিকল্প জমি খোঁজা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাতে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কোচবিহারের উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই প্রস্তাব সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। এদিনের এই বৈঠকের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিমানবন্দরের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন নিশীথ। তিনি বলেন, ‘কোচবিহার বিমানবন্দরের আয়তন কিছুটা ছোট। আমরা চেষ্টা করছি কালভার্ট তৈরি করে তার আয়তন বাড়ানোর। এছাড়াও আশেপাশে জমি খোঁজা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, রাজ আমলের কোচবিহার বিমানবন্দরে একসময় নিয়মিত বিমান চললেও, বর্তমানে তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিনের বৈঠকে বিমানবন্দরের পাশাপাশি বাঁধগুলি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্ষার আগে জেলার প্রতিটি বাঁধের পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের আমলে রাজ্যের খেলাধুলোর মান অনেক কমে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে নিশীথ বলেন, ‘খেলাধুলোর মান উন্নয়নের জন্য আমাদের সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালাবে। কোচবিহারে শুরু হওয়া স্পোর্টস হাবের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। পাশাপাশি এখান থেকে প্রতিভা তুলে আনা হবে।’
কোচবিহার জেলায় প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে ৫০ কিলোমিটারেও বেশি খোলা সীমানা। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খোলা সীমান্তগুলিতে কাঁটাতার বসানো হবে। কোচবিহারে সীমান্তের এক মিটার জায়গাও খোলা অবস্থায় থাকবে না বলে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নিশীথের পাশাপাশি জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন, জেলার ইনচার্জ তথা সাংসদ মনোজ টিগ্গা এবং বিধায়করা সহ কোর কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা। সেখানেও এদিনের প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
