কোচবিহার: বাড়ির অন্যতম ‘সদস্য’ পোকোর জন্মদিন বলে কথা। সে কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোচবিহার শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় ঘোষবাড়িতে ছিল সাজোসাজো রব। দোকানে কেকের অর্ডার দেওয়া, বার্থ-ডে বয়ের জন্য নতুন পোশাক বানানো, ছবি দিয়ে তার ফ্লেক্স তৈরি করা, বাড়ি-গাড়ি বেলুন দিয়ে সাজানো– সবই করছেন বাড়ির অন্য সদস্যরা। এর সঙ্গে আবার ছিল জন্মদিনে ভোজের ব্যবস্থা। যেমন তেমন নয়, মেনু একেবারে মাংস-ভাত। এতটা পড়ে পাঠক হয়তো ভাবছেন, এটা নিশ্চয়ই আর পাঁচটা সাধারণ জন্মদিনের গল্প। না মশাই। তেমনটা নয়। এতক্ষণ যার কথা হচ্ছিল অর্থাৎ বার্থ-ডে বয় পোকো আসলে ঘোষবাড়ির সকলের প্রিয় পোষ্য (দেশি সারমেয়)।
পোকোর জন্মদিন প্রসঙ্গে ঘোষবাড়ির অন্যতম সদস্য শ্রেয়সী ঘোষ বলেছেন, ‘আমি সারমেয়দের নিয়ে কাজ করি। পাশাপাশি বাড়িতে দুটি দেশি সারমেয়কে সন্তানস্নেহে লালনপালন করি। এদিন পোকোর জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষ্যে আমরা এই আয়োজন করেছি। সন্ধ্যায় কেক কাটা হয়েছে। পাশাপাশি সারমেয়দের নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের বেশ কয়েকজনকে নেমন্তন্ন করেছি।’
বৃহস্পতিবার প্রিয় পোষ্যের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ব্যস্ততা ছিল ঘোষবাড়িতে। সকাল থেকে ঘোষবাড়ির হেঁশেলে শুরু হয়ে গিয়েছিল মাংস-ভাত রান্নার কাজ। মাংস রান্নার গন্ধে খুশিতে তখন ডগমগ পোকো। রান্নাবান্না শেষে একটি টোটোতে পোকোর ছবি সহ ফ্লেক্স ও বেলুন দিয়ে সাজিয়ে তোলেন ঘোষবাড়ির সদস্যরা। এরপর রীতিমতো নতুন পোশাক পরিয়ে পোকোকে টোটোতে বসানো হয়। পোকোর মতো বাকি সারমেয়দের জন্যও এদিন খাবারের বন্দোবস্ত করেছিলেন শ্রেয়সীরা। তাঁরা বেরিয়েছিলেন খাবারের বালতি নিয়ে। টোটোতে চেপে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাগজের থালা পেতে পথকুকুরদের খাবার পরিবেশন করা হয়। পছন্দের খাবার পেয়ে তখন আনন্দে লেজ নাড়ছিল সারমেয়রা। ওই পরিবারের এই উদ্যোগকে সকলেই স্বাগত জানিয়েছেন।
শ্রেয়সীর কথায়, ‘অধিকাংশ লোকই বিদেশি প্রজাতির সারমেয়কে গুরুত্ব দেন। কিন্তু দেশিগুলোকে খুব কম মানুষ যত্নআত্তি করেন। ভিন্ন প্রজাতির সারমেয়দের পাশাপাশি দেশিদেরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ আপনারা খাবার দিলে তবেই ওরা খেতে পারবে।’ শ্রেয়সীর এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর বাবা বাসুদেব ঘোষও।
