বুল নমদাস, নয়ারহাট: এ এক ‘আজব স্কুল’। এই স্কুলে দুজন শিক্ষক রয়েছেন। খাতায়–কলমে জনা কুড়ি পড়ুয়াও রয়েছে। কিন্তু কোনও ক্লাসরুমই নেই। একই চত্বরে থাকা প্রাথমিক স্কুলের পুরোনো একটি ঘরে একসঙ্গে চার শ্রেণির পঠনপাঠন চলে। সেই ঘরে দুটি মাত্র বেঞ্চ রয়েছে। পাঠশালার এমন দৈন্যদশায় পড়ুয়াদের উপস্থিতিও চমকে দেওয়ার মতোই। কোনওদিন পাঁচ-ছয়জন পড়ুয়া আসে, মাঝেমধ্যে একজনও আসে না। বেশিরভাগ দিন পড়ুয়াদের ডেকে নিয়ে আসতে হয়। পরীক্ষার দিনগুলিতেও তাই। এক ঝলকে এটাই খাটেরবাড়ি জুনিয়ার হাইস্কুলের ছবি।
এরই মধ্যে একদিন দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। স্কুলের টিআইসি জয়ন্ত দে একাই ঘরে বসে রয়েছেন। অপর শিক্ষক গোবিন্দ বড়াই এলাকায় এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত। কথাপ্রসঙ্গে জয়ন্ত বললেন, ‘এদিন স্কুলে কোনও পড়ুয়াই আসেনি। তাই একা বসে রয়েছি। পরিকাঠামোহীন এই স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করানো নিয়ে অভিভাবকদের অনীহা রয়েছে। তাই পড়ুয়ার সংখ্যা খুব কম। উপস্থিতির হারও ভালো নয়।’ তাঁর সংযোজন, ‘বেশিরভাগ দিন বাড়ি থেকে পড়ুয়াদের ডেকে আনতে হয়। এমনকি পরীক্ষার সময়ও তাই করতে হয়।’ স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরি করা হলে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি উপস্থিতির হারও বাড়বে বলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মনে করছেন। মাথাভাঙ্গা-১ সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মুনমুন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, ‘ওই স্কুলের স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির বিষয়টি একাধিকবার ওপরমহলের নজরে আনা হয়েছে। আশা করছি সাড়া মিলবে।’
মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের হাজরাহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব খাটেরবাড়িতে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে স্কুলটির পথ চলা শুরু হয়। কিন্তু সেটি নামেই জুনিয়ার হাইস্কুল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্কুলটি প্রশাসনিক বঞ্চনার শিকার বলে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ। এতদিনেও স্কুলের স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে না ওঠায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। তবে প্রকাশ্যে কেউ বিবৃতি দিতে নারাজ। এতদিন অতিথি শিক্ষক দিয়েই স্কুলটি চলছিল। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে প্রথম দুজন স্থায়ী শিক্ষক যোগদান করায় স্থানীয়দের অনেকেই খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু পরিকাঠামো তৈরি না হওয়ায় স্কুলটির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। একই চত্বরে থাকা খাটেরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিআইসি বিক্রমজিৎ ভৌমিকের বক্তব্য, ‘জুনিয়ার হাইস্কুলটির স্থায়ী পরিকাঠামো না থাকায় এলাকার অভিভাবকরা সেখানে ছাত্র ভর্তি করাতে ভরসা পাচ্ছেন না। তাই পরিকাঠামো তৈরিতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
