Harishchandrapur | শৌচকর্মের জন্য ছুটতে হয় বাড়ি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে ক্ষোভ

Harishchandrapur | শৌচকর্মের জন্য ছুটতে হয় বাড়ি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নেই পানীয় জল, শৌচালয় কিংবা বিদ্যুতের ব্যবস্থা। যে কারণে এই কেন্দ্রে পড়তে আসা শিশু এমনকি প্রসূতিদেরও পানীয় জল, শৌচালয়ের অভাবে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শৌচালয়ের বেহাল দশার কারণে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়াশোনা চলাকালীন অনেক শিশুকে শৌচকর্ম করতে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে বাড়ি ছুটতে হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রে কোনও পানীয় জলের উৎস পর্যন্ত না থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে জল তুলে নিয়ে আসতে হচ্ছে রান্না এবং খাবারের জন্য। এমনই বেহাল চিত্র ধরা পড়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) সদর এলাকার রামরাই প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে।

এলাকার অভিভাবকদের অভিযোগ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি যে শৌচালয় রয়েছে তাতে কোনও জলের ব্যবস্থা নেই, সেখানকার দরজাও ভাঙা। এই বেহাল দশার মধ্যে সেন্টারের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে কর্মী এবং সহায়িকাদের। এ প্রসঙ্গে ব্লক এবং সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পের আধিকারিকদের জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ। চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে খুদে পড়ুয়া এবং প্রসূতিদের এই সেন্টারের উপর ভরসা করে থাকতে হচ্ছে।

কেন্দ্রের এক অভিভাবিকা খুশি রজক বলেন, ‘আমার বাড়ির দুজন শিশু এই কেন্দ্রে পড়াশোনা করে। কিন্তু এই কেন্দ্রের মধ্যে থাকা শৌচালয়ের খুবই খারাপ অবস্থা। দরজা নেই, জল নেই, সেইসঙ্গে পানীয় জলেরও চরম অভাব। বিদ্যুতের অভাবে গরমকালে ফ্যান পর্যন্ত ঘোরে না। শিশুদের শৌচকর্ম পেলে তাদের বাধ্য হয়ে বাড়িতে ছুটতে হচ্ছে পড়াশোনা ফেলে। এর থেকে চরম কষ্টের আর কী হতে পারে?’

স্থানীয় বাসিন্দা মইদুল হক জানান, শিশুরা জল খাবে, তার কোনও ব্যবস্থা নেই। দিদিমণিরা রান্নার জল দূরের হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসছেন হেঁটে হেঁটে। তাঁর সংযোজন, ‘কেন্দ্রের চারিদিকে জঙ্গল। কিছুদিন আগে পাশের জুনিয়ার হাইস্কুল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল আনা হচ্ছিল কিন্তু সেটা এতটাই নোংরা যে পানের অযোগ্য। শৌচালয়ের বেহাল দশার কারণে মেয়েকে নিয়মিত কেন্দ্রে পাঠাতে পারি না।’

সেন্টারের কর্মী মধুমিতা রায় বলেন, ‘আমাদের সেন্টারের ওপর প্রচুর শিশু নির্ভরশীল। পাশাপাশি প্রসূতিরাও রয়েছেন। কিন্তু সেন্টারের বেহাল দশার কারণে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। শৌচালয়ের অভাবে অনেকেই ভয়ে সেন্টারে আসতে চাইছে না। পানীয় জলের পরিষেবা নেই।’

এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লক সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আজকে আমাদের প্রশাসনিক মিটিংয়ে ব্লকের অন্তর্গত যে সমস্ত সেন্টারগুলির জল, বিদ্যুৎ এবং শৌচালয় সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অবিলম্বে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *