শীতলকুচি: শীতলকুচি ব্লকের বড় গদাইখোঁড়া গ্রামে শুক্রবার বাড়ি বাড়ি ঘুরে মহিলাদের ছবি তোলা ও মোবাইল নম্বর চাওয়ায় দুই মহিলা এবং এক তরুণকে আটক করা হয়। এদিন গদাইখোঁড়া গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ওই তিনজন মহিলাদের ছবি তোলেন এবং ফোন নম্বর চান, ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকা স্থানীয়রা ওই তিনজনের কাছে ছবি তোলা এবং ফোন নম্বর চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। নিমেষেই ঘটনাস্থলে জটলা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় শীতলকুচি থানার পুলিশ। এই প্রসঙ্গে শীতলকুচি থানার ওসি অ্যান্থনি হোড়ো বলেন, ‘তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
আটক হওয়া ওই তিনজনের নাম যথাক্রমে বনশ্রী সেন, রুমা দত্ত ও রাজু বর্মন। তাঁদের বাড়ি মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নিউ গোঁসাইরহাট এলাকায়। সাফাই দিয়ে রাজু বলেন, ‘আমরা একটি বেসরকারি কোম্পানির পণ্য নিয়ে গদাইখোঁড়া গ্রামে প্রচারের কাজে এসেছি। এই কোম্পানির টোল ফ্রি নম্বরে বাসিন্দাদের মিসড কল দিতে বলা হয়েছে। এলাকার মানুষ ভুল সন্দেহের বশে আমাদের আটক করেন।’ এই মুহূর্তে গ্রামের মানুষের মধ্যে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছে। বিভিন্ন খবর এবং রটনায় তাঁরা বিভ্রান্ত। এই অবস্থায় এদিন ওই তিনজন গ্রামে এসে মহিলাদের ছবি তোলা এবং ফোন নম্বর চাইলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আটক হওয়া দুই মহিলা এবং ওই তরুণ এলাকার কারও পরিচিত নন। অপরিচিত লোক বাড়িতে ঢুকে মোবাইল নম্বর ও ছবি তুলতে চাইছে। মানুষ এমনিতেই এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। এভাবে অপরিচিত কেউ বাড়িতে এসে ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। তাই তাঁদের আটক করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁদেরকে থানায় নিয়ে গিয়েছে।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পঞ্চায়েত সদস্যা আনোয়ারা খাতুন বিবি। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষের কাছে কোনও কোম্পানি ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে না। পুলিশকে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাব।’
