তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: রাস্তায় থুতু ফেললেই ২০০ টাকা জরিমানা। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর এই নির্দেশে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে কোচবিহারের (Cooch Behar) পুর ও প্রশাসনিক মহলের। শহরের রাজপথে এক পা ফেললেই চোখে পড়ে যত্রতত্র ফেলা থুতুর ছাপ। লাল, খয়েরি, কালো রঙের বিচিত্র দাগে ঢেকে গিয়েছে রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী এই শহরের বিভিন্ন দেওয়াল, ফুটপাথ ও ডিভাইডার। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কেবল জরিমানার চোখরাঙানি দিয়ে কি আদৌ নাগরিকদের অভ্যাস বদলানো সম্ভব? নাকি এই কড়াকড়ি খাতায়-কলমেই বন্দি থাকবে? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক অন্দরে। কোচবিহারের জেলা শাসক বলেন, ‘আইন করে বা জরিমানা চাপিয়ে মানুষের এই বাজে অভ্যাস আটকানো সম্ভব নয়। এরজন্য প্রয়োজন নাগরিকদের ব্যাপক স্তরে জনসচেতনতা।’
দুপুর গড়াতেই কাছারি মোড়ে দেখা গেল এক অদ্ভুত ছবি। সাগরদিঘির কোণে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে গুটখা চিবোতে চিবোতে অবলীলায় থুতু ফেললেন এক পথচারী। মুহূর্তের মধ্যে নোংরা হল নতুন পাতা কোবাল্ট স্টোন। একটু এগোতেই উত্তরপ্রান্তে ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তরের সামনের রাস্তাতেও একই হাল। সুন্দর পেভার্স ব্লকের ওপর জমে উঠেছে থুতুর পরত। আরও খারাপ অবস্থা কোচবিহার কোর্ট চত্বরের। যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়, সেখানেও অবাধে আইন ভাঙার প্রতিযোগিতা চলছে। ভবনের ভেতরের দেওয়াল ও গাছের গোড়ায় থুতুর দাগ সর্বত্র।
একই চিত্র সুনীতি রোডেও। নির্মীয়মাণ ডিভাইডার, এখনও পুরোপুরি তৈরিই হয়নি, তার আগেই তা পরিণত হয়েছে আস্ত এক পিকদানিতে। চলন্ত টোটো বা বাস থেকে ফেলা পানের পিকে ডিভাইডারের ধূসর মার্বেল ঢেকে গিয়েছে। শহরের বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন টার্মিনাল কিংবা এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল— চিত্রটা সর্বত্র এক। হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে এক নিরাপত্তারক্ষী আক্ষেপের সুরে বললেন, ‘কতবার মানুষকে বারণ করা যায় বলুন তো! মানুষ নিজের দায়িত্ব না বুঝলে আমরা কী করব?’
এদিকে জরিমানা কার্যকর করা নিয়ে রীতিমতো ফাঁপরে পুরকর্মীরা। কর্মীসংকটে ভোগা পুরসভার কর্মীরা রাস্তা পরিষ্কার করবেন, আবর্জনা সরাবেন, নাকি শহরজুড়ে থুতু ফেলা পাহারা দিয়ে জরিমানা আদায় করবেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, ‘শহরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করছেন। কার পেছনে কে ছুটবে? আর কেউ থুতু ফেলেছে তা প্রমাণই বা করা যাবে কীভাবে?’ সচেতন নাগরিকদেরও একই মত। মানুষ নিজের নাগরিক দায়বদ্ধতা না বুঝলে শুধু পুলিশ ও পুরকর্মীদের নামিয়ে এই নোংরা সংস্কৃতির অবসান ঘটানো অসম্ভব।

