তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: এখন থেকে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় (Restaurant) খেতে গিয়ে গ্রাহক চাইলে সেই হোটেলের রান্নাঘর ঘুরে দেখতে পারেন। কারণ তিনি যে খাবার খাবেন, তা ঠিক কীভাবে, কোন পরিবেশে প্রস্তুত হচ্ছে তা যাচাই করে নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। কোনও হোটেল বা রেস্তোরাঁ মালিক যদি রান্নাঘর দেখাতে রাজি না হন তাহলে সরাসরি জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। এমনটাই নির্দেশ জারি করেছেন কোচবিহারের (Cooch Behar) জেলা শাসক জিতিন যাদব। সোমবার এই বিষয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে একটি বৈঠক হয়। তারপরেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নানা সময় বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। খাবারের মধ্যে অনেক সময় পোকা পাওয়া যায়। সেসময় গ্রাহক চাইলেও ওই রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান না। কিন্তু এই নির্দেশিকার ফলে হোটেলে খেতে গিয়ে খাবারের মান নিয়ে সংশয় থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলে রান্নাঘরের ভেতরে ঢোকা যাবে। তাই এখন থেকে শুধু মেনু কার্ড নয়, দেখা যাবে রান্নাঘরও। নির্দেশিকার খবর পেয়ে যথেষ্ট খুশি ভোজনরসিকরা। বেসরকারি সংস্থার কর্মী রণদীপ পাল বলেন, ‘রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে অনেক সময় খাবারের মান নিয়ে সন্দেহ হয়। জেলা শাসকের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
সম্প্রতি রাজ্যজুড়েই বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠছিল। কলকাতা, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জেলায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা আচমকা হানা দিচ্ছেন। সেই অভিযানে পচা, বাসি খাবার উদ্ধারের পাশাপাশি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার প্রমাণ পেয়েছেন আধিকারিকরা। নিয়ম ভাঙার কারণে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষকে জরিমানাও করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এই ধরপাকড়ের আবহে কোচবিহার জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং রাজ্যের মধ্যে এক অনন্য নজির।
ঝকঝকে ডাইনিং হল, সুসজ্জিত টেবিল দেখে অনেক সময় বোঝা যায় না ভেতরের রান্নাঘরের প্রকৃত চিত্র কী। সেই সংশয় দূর করতে এবং গ্রাহকস্বার্থ সুরক্ষিত করতে প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে। তবে ভিড় বা রান্নার ব্যস্ত সময়ে কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে সাময়িক অপেক্ষা করতে বলতে পারেন। কিন্তু যুক্তিগ্রাহ্য কোনও কারণ ছাড়া গ্রাহককে রান্নাঘর দেখতে বাধা দেওয়া হলে, সেই মুহূর্তে কোচবিহার জেলা কন্ট্রোল রুমে ৯১ ৩৫৮২২২৩০৯৯ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।
জেলা শাসক বলেন, ‘গ্রাহকদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে খাবারের মান যাচাই করে নেওয়ার। এর ফলে খাদ্য সুরক্ষায় স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে। হোটেল বা রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তাছাড়া সব জায়গায় আমাদের পক্ষে যাওয়াও সম্ভব নয়। তাই গ্রাহকরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বিষয়গুলো দেখে নিলে প্রশাসনেরও সুবিধা হবে। মালিকেরাও সজাগ থাকবেন। আর অভিযোগ পেলে প্রশাসনের তরফে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।’

