Cooch Behar | বিদ্যালয়ের ভেঙে পড়া দেওয়ালের ইট নিলেন গ্রামবাসীরা

Cooch Behar | বিদ্যালয়ের ভেঙে পড়া দেওয়ালের ইট নিলেন গ্রামবাসীরা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


দিনহাটা: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে যখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ, তখন সাধারণ মানুষের দায়বদ্ধতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যাঁদের সন্তানদের জন্য বিদ্যালয় তাঁরাই বিদ্যালয়ের ভেঙে পড়া দেওয়ালের ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে দিনহাটার গোসানিমারি-২  গ্রাম পঞ্চায়েতের কামতাপুর এলাকায়।

বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ কামতা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ঘরের দেওয়াল ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকার কিছু বাসিন্দা ভ্যান ও ঠেলায় ভেঙে পড়া দেওয়ালের ইট নিজেদের বাড়িতে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’ভাগে বিভক্ত গ্রামবাসীরা। একদল অভিযোগ করছেন, বিদ্যালয়ের আশপাশের কিছু বাসিন্দা ইচ্ছে করেই ট্র্যাক্টর দিয়ে দেওয়ালটি ভেঙে ফেলেছেন, যাতে বিদ্যালয়ের জমি দখল করা যায়। অন্য একদল বলছেন, দেওয়ালটি ছিল পুরোনো ও জীর্ণ, তাই হঠাৎই ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দীপককুমার রায় অভিযোগ করেন, ‘ট্র্যাক্টর দিয়ে জেনেবুঝে দেওয়ালটি ফেলা হয়েছে। পরে ইটগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।’ আর এক গ্রামবাসী বিষ্ণু রায় বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে বহুবার ধান শুকানো, ঘরে ধানের বস্তা রাখা, এমনকি মাঠে ট্র্যাক্টর ও গোরুর গাড়ি রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এখন দেওয়াল ভেঙে ইট নিয়ে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননা।’

বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন আগে এই বিদ্যালয়ের গ্রাম শিক্ষা কমিটি ভেঙে গিয়েছে। বিদ্যালয়ের পুরো দায়িত্ব এখন প্রধান শিক্ষক বিকাশ দাসের ওপর। স্কুল চলাকালীন কীভাবে বিদ্যালয়ের দেওয়াল ভাঙা এবং সেই দেওয়ালের ইট খুলে নিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ দাস অবশ্য জানান, ‘ঘটনাটি প্রায় দুপুর দুটো নাগাদ ঘটে। আমি তখন ছাত্রদের বাড়িতে ভিজিটে গিয়েছিলাম। ফোনে খবর পেয়ে এসে দেখি, ইটগুলো আর নেই। দেওয়ালটি প্রায় ৪০ বছর পুরোনো ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে গ্রামবাসীরা ইটগুলো বিদ্যালয়ের মধ্যে রাখলে ভালো করতেন।’ তিনি এই ঘটনার বিষয়ে দিনহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন।

তবে এর আগেও গত ২৮ জুন উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের মাঠে ধান ঝাড়াই থেকে শুরু করে গাড়ি রেখে মাঠ দখলের খবর। এবার বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের ইট খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। গোসানিমারি সার্কেলের এসআই সুদীপ মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েছি। প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ জানালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’

বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় শিক্ষা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গ্রামের সচেতন বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষার দায় শুধু সরকারের নয়, গ্রামের প্রতিটি মানুষেরও। বিদ্যালয় যদি গ্রামবাসীদের হয়, তবে তার সুরক্ষার দায়িত্বও তাঁদেরই নিতে হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *