অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: মাছ ধরার জন্য কারেন্ট জালের ব্যবহার আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে বর্তমানে ওই জাল দিয়ে অবাধে বিভিন্ন নদী, পুকুর থেকে মাছ ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কারেন্ট জাল অনেকটা মশারির মতো। ওই জালে ছোট মাছ, পোনা আটকে যায়। বর্ষা শুরু হতেই ওই জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। কারণ, এই মরশুমে মাছ বংশবিস্তার করে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা ওই জালের ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
কোচবিহারের (Cooch Behar) হলদিবাড়ির (Haldibari) পরিবেশপ্রেমী সুমন দাসের কথায়, ‘নদীয়ালি মাছ রক্ষা করতে ওই জালের ব্যবহার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। এমনিতেই নদীর পাড়ে চাষাবাদ ও দূষণের জেরে নদীতে মাছের বংশবিস্তারের সুস্থ পরিবেশ নেই। এরপর এ ধরনের জাল বিছিয়ে নদীর সব মাছ তুলে নেওয়া হলে এর ফল মোটেই ভালো হবে না।’
বর্ষা শুরু হতেই হলদিবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন বাজারে দেদারে ওই জাল বিক্রি শুরু হয়েছে। ওই জাল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কারেন্ট জাল নামে পরিচিত। শহর ছাড়াও গ্রামগঞ্জের হাটে বিভিন্ন দোকানে সাজিয়ে রাখা নিষিদ্ধ ওই জাল। বিক্রিও হচ্ছে ভালোই, বলছেন কাশিয়াবাড়ির এক ব্যবসায়ী খোকা মহম্মদ। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কারেন্ট জালের চাহিদা বাড়ে। মাছের বংশবিস্তারের এই মরশুমে এভাবে মাছ ধরা হলে আগামীদিনে বিভিন্ন নদীয়ালি মাছ পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।’
আগে হলদিবাড়ি ব্লকের তিস্তা নদী, গিরিয়া, বুড়িতিস্তা নদীর মতো ছোট-বড় নদীগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এখন বহু মাছ প্রায় বিলুপ্ত। অধিক আয়ের আশায় ওই জাল দিয়ে মাছ ধরা চলছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন হলদিবাড়ির এক মৎস্যজীবী মনোজ রায়।
কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ হলেও বাজারে আসছে কোথা থেকে? আর নদীতে এভাবে জাল ফেলে মাছ ধরা হলেও প্রশাসনের নজরদারিই বা কোথায়? এ ব্যাপারে মৎস্য দপ্তরের এক আধিকারিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি দায়সারাভাবে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ওই জাল ব্যবহার বন্ধ করতে মৎস্যজীবীদের মধ্যে অনেকবার সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়েছে।
