কোচবিহার: দলীয় কোন্দল কিছুতেই থামছে না জেলা কংগ্রেসের অন্দরে। এবার দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে কারণ দর্শানো বা শোকজের নোটিশ দিলেন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার। একইসঙ্গে আরেক কংগ্রেস নেতা মির মোশারফ হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই নিয়ে জেলা কংগ্রেসে গোষ্ঠীকোন্দল এখন প্রকাশ্যে।
জেলা সভাপতির পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি তথা পিসিসি সদস্য আজিজুল হক। দলের নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গাইডলাইন অনুযায়ী জেলা সভাপতি কখনোই পিসিসি মেম্বারকে শোকজের নোটিশ দিতে পারেন না। এখন আমরা কার কাছে সুবিচার চাইব?’
যদিও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এঁরা দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে দলবিরোধী নানা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এদিকে শোকজের নোটিশ পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুব্রত। তিনি বলেন, ‘মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কংগ্রেসের জেলা সহ সভাপতি মতিলাল জৈন অন্য দলের প্রচারে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে জেলা সভাপতি কোনও পদক্ষেপ করেননি। দলে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন তিনি। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
সুব্রতর সুরে দলের একাংশের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে মতিলালকে তৃণমূলের তৎকালীন জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের হয়ে নির্বাচনি প্রচারে নামতে দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে দলের অন্দরে নেতারা প্রশ্ন তুলতে ছাড়ছেন না। ভোটের দিনকয়েক আগে সুব্রতকে সেবাদলের সভাপতি পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার তাঁকে শোকজের নোটিশ পাঠানোয় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে আগামী ৭ জুন জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে দলের কর্মীদের একটি গোষ্ঠী ‘প্রকৃত কংগ্রেসীবৃন্দ’ নামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। জেলা সভাপতির অনুমান, এর পেছনে সুব্রত এবং মির মোশারফের হাত রয়েছে। সব মিলিয়ে, সুব্রতকে শোকজ এবং মির মোশারফকে বহিষ্কারের ঘটনায় জেলা কংগ্রেসের ফাটল আরও চওড়া হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
