Cooch Behar | খোলা ডিজেলে না, সমস্যায় কৃষক

Cooch Behar | খোলা ডিজেলে না, সমস্যায় কৃষক

শিক্ষা
Spread the love


কোচবিহার: সরকারি নির্দেশে পাঁচ-ছয়দিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলো থেকে খোলা ডিজেল, পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেট্রোল এবং ডিজেল, বিশেষ করে ডিজেল বিক্রির পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে পেট্রোল পাম্পগুলিতে। এতে আর্থিক ক্ষতি এবং সমস্যার মুখে যে শুধুমাত্র পেট্রোল পাম্পগুলিই পড়েছে তা নয়, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকেও।

উত্তরবঙ্গ পেট্রোল পাম্প ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোচবিহার জেনারেল চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বণিক বলেন, ‘নতুন এই নিয়মে কৃষক এবং বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলোতে সমস্যা হচ্ছে। সরকারের উচিত বিষয়টি দেখা।’

আধুনিক কৃষিকাজে ট্র্যাক্টর থেকে শুরু করে মোটর, মেশিন, পাম্পসেট সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালাতে পেট্রোল বা ডিজেল লাগে। কৃষকরা তাই পেট্রোল পাম্প থেকে কনটেনারে সেসব সংগ্রহ করে নিয়ে যান। কিন্তু নতুন নিয়মে কনটেনারে এখন আর ডিজেল বা পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। তার জন্য বিশেষ জারের কথা বলা হয়েছে। এখানেই সমস্যার সূত্রপাত।

কোচবিহার-২ ব্লকে খোল্টার কৃষক রতন মণ্ডল বলেন, ‘কৃষিকাজে ট্র্যাক্টর, মোটর, মেশিন, সব কাজেই এখন ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এতদিন আমরা প্রয়োজনে কনটেনার নিয়ে গিয়ে ডিজেল নিয়ে আসতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সেটা পাচ্ছি না। খুবই সমস্যা হচ্ছে।’

একই কথা বললেন ঢাংঢিংগুড়ির কৃষক বীরেন রায়ও। দুর্ভোগে পড়েছে কোচবিহারের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও বিকল্প হিসেবে বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের সময় জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতেই হয়। আর সেটা চালাতে ডিজেল লাগে। শহরের বৈরাগীদিঘি সংলগ্ন একটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফে পলাশ গুছাইত বলেন, ‘ডিজেল না পাওয়ায় আমরাও সমস্যায় পড়েছিলাম। পরে লিখিত আবেদন করে আমরা কিছুটা ডিজেল এনেছি।’ কিন্তু সবাই তো এই সুবিধা পাচ্ছেন না। তাঁদের কী হবে, সেই প্রশ্নই উঠছে।

অন্যদিকে, সরকারি এই নতুন নিয়মে পাম্পগুলির বিক্রিও অনেকটা কমে গিয়েছে। এতে ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। কোচবিহার শহরের এক পেট্রোল পাম্পের কর্মী জানালেন, এতদিন তাঁদের রোজ গড়ে ৭ হাজার লিটারের

মতো পেট্রোল এবং ডিজেল বিক্রি হত। এর মধ্যে কনটেনারে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল এবং ৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি হত। কিন্তু এখন সেই বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

তুফানগঞ্জের এক পেট্রোল পাম্পের তরফে সুচিত্র দাসও অনেকটা একই পরিসংখ্যান দিলেন। তাঁর পেট্রোল পাম্প থেকে আগে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল এবং পেট্রোল বিক্রি হত। এখন সেসবই অতীত।

এদিকে, প্রতিদিন কোনও যানবাহনকে ২০০ লিটারের বেশি ডিজেল দেওয়া যাবে না বলে নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন মাস এই নিয়ম মানতে বলা হয়েছে।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *