Congress CJP Conflict | কংগ্রেস-সিজেপি সংঘাত! রাহুলের সত্যাগ্রহের মাঝেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বনাম হাত শিবিরের তরজা তুঙ্গে

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভের পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP) ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। সিজেপি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলির প্রভাবমুক্ত একটি বিকেন্দ্রীকৃত আন্দোলন হিসেবে দাবি করলেও, কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ (Congress CJP Conflict), এই সংগঠনের নেপথ্যে রয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টির (AAP) মদত।

সিজেপি যখন বিভিন্ন রাজ্যে তাদের  ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি—যা স্বাধীনতা দিবসে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি থেকে শুরু হয়—সম্প্রসারিত করতে শুরু করে, তখন কংগ্রেসও এই ইস্যুতে নিজেদের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। এর অঙ্গ হিসেবে রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেস সরকারি স্কুল পরিদর্শনের জন্য রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস এবং সিজেপি সমান্তরালভাবে প্রতিবাদ চালিয়েছিল। গত মে মাসে সিজেপির ‘ককরোচ’ বা আরশোলা ক্যাম্পেইন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর, জাতীয় যুব কংগ্রেস (IYC) নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে “ইন্ডিয়ান ইউথ ককরোচ” নামে নিজস্ব একটি প্রচার শুরু করে। যুব কংগ্রেস নিজেদের ‘আসল আরশোলা’ হিসেবে তুলে ধরে দাবি করে যে তারা কেবল অনলাইনে নয়, রাজপথেও উপস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কংগ্রেস কি সিজেপির এই হঠাৎ পাওয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছে?

বিক্ষোভের পারদ চড়তে থাকায় রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi) যখন একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক দিচ্ছেন, ঠিক তখনই সিজেপি নেতারা ‘অ-বিজেপি’ দলগুলির বিরুদ্ধে একটি ‘স্বঘোষিত উদারপন্থী ইকোসিস্টেম”’সক্রিয় করার অভিযোগ তুলেছেন। এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘এই ইকোসিস্টেমটি নিজেদের সংবিধানের একমাত্র রক্ষক বলে মনে করে।’ সমালোচকদের ‘পুরোপুরি ভাঁড়’ আখ্যা দিয়ে সৌরভ দাস বলেন, ‘এদের আচরণ অনেক সময় বিজেপির ইকোসিস্টেমের চেয়েও খারাপ, তাই এদের উচিত যুবসমাজকে সমর্থন করা।’ যদিও তাঁরা সরাসরি কংগ্রেসের নাম নেননি, তবে হাত শিবিরের নেতারা এটি নিজেদের উদ্দেশ্যেই আক্রমণ বলে ধরে নিয়েছেন। বিতর্ক এড়াতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, প্রতিষ্ঠিত দলগুলির এই ধরনের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে যুবসমাজ এমনিতেই ক্লান্ত, কারণ দলগুলি সাধারণ মানুষের চেয়ে নিজেদের প্রচারেই বেশি আগ্রহী।

এই মন্তব্যের পর কংগ্রেসের অন্দরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কংগ্রেস নেতা বিজয় থোট্টাথিল প্রশ্ন তোলেন, কেন মুম্বইয়ে সিজেপি বিক্ষোভকারীরা অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারল, অথচ এনএসইউআই (NSUI) এবং যুব কংগ্রেসের কর্মীদের আটক করা হল? তিনি আরও জানতে চান, বিজেপি প্রশাসন কি তবে সিজেপির আন্দোলনকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করছে! কংগ্রেস কর্মী আদিত্য গোস্বামী সৌরভ দাসকে ‘পরিণত’ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘সিজেপি যদি প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গেই লড়াই করতে চায়, তবে তাদের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা উচিত।’ এই বিতর্কের মাঝে কংগ্রেস সদস্য তুষার গান্ধি দু’পক্ষকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কংগ্রেস, সিজেপি এবং আইসা-র (AISA) লক্ষ্য অভিন্ন, তাই নিজেদের মধ্যে লড়াই করার সময় এটি নয়।’

এর আগে সিজেপির অসম প্রচারের সময়ও এই সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছিল। কংগ্রেস মুখপাত্র ঋতম সিং অভিযোগ করেছিলেন যে, অসমে আটকের পর কংগ্রেস কর্মীরা সিজেপি সদস্যদের পাশে দাঁড়ালেও, আপের নির্দেশেই সাংসদ গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন রাঙ্কা। সিজেপি এবং কংগ্রেসের এই লড়াই মূলত বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেই প্রকট করে তুলেছে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আদিত্য ঠাকরে থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টি, বামফ্রন্ট, এনসিপি, এসপি এবং আপের মতো দলগুলি সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থন করেছে, সেখানে তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে থাকা এই নতুন সংগঠনের সাথে পাল্লা দিয়ে কংগ্রেস নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *