College of Gour Banga | অধ্যাপকদের ৭ ঘণ্টা উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, নির্দেশ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের 

College of Gour Banga | অধ্যাপকদের ৭ ঘণ্টা উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, নির্দেশ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের 

শিক্ষা
Spread the love


কল্লোল মজুমদার, মালদা: সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে অধ্যাপকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেই হবে। আর কোনওভাবেই বেলা সাড়ে ৫টার আগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া যাবে না। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় (College of Gour Banga) কি মামাবাড়ি বলে প্রশ্ন তুলে উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য এমনই মৌখিক নির্দেশিকা জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে সভা করে উপাচার্য শুধু এই নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গাড়ি বা ক্যারম খেলার মতো বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপর এনিয়ে রেজোলিউশনও পাশ হয়ে যায়। তবে তা এখনও বিতরণ করা হয়নি। এদিকে, এরপর থেকেই গোটা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অধ্যাপকদের একাংশ ক্ষোভ জানিয়েছে। তবে কেউ কেউ উপাচার্যের সিদ্ধান্তকে সমর্থনও জানিয়েছেন। বহু চেষ্টা করেও উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে বৈঠকে তঁার নির্দেশের বিষয়টি অনেকেই স্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সপ্তাহে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও প্রফেসরদের কত ঘণ্টা উপস্থিত থাকতে হবে তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। কিন্তু গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অনেকেই তা কোনওভাবেই মানছিলেন না বলে অভিযোগ। তঁাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাতে নিজেদের গাড়ি রাখা, ক্যারম খেলা সহ নানা অভিযোগও উঠে আসছিল। এককথায়, তাঁরা পুরোপুরিভাবে নিজের ইচ্ছেমতো চলছিলেন। সেদিক দিয়ে এই নির্দেশ ঠিক বলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ইসি সদস্য অধ্যাপক শক্তিপদ পাত্র মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত পরিকাঠামোই আছে। কিন্তু কোনও অনুশাসন ছিল না। অনুশাসন ফিরে এলেই এখানেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তাই এই উপাচার্যের কঠোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

উলটো অবস্থানে দাঁড়িয়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা প্রাক্তন কন্ট্রোলার সনাতন দাস বললেন, ‘একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান সেই প্রতিষ্ঠানকে মামাবাড়ি বলে সম্বোধন করছেন। তাঁর কাছে এমনটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’ নাম না প্রকাশের শর্তে অধ্যাপকদের একাংশ উপাচার্যের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তাঁদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। তঁাদেরই একজনের কথায়, ‘আমরা কি সরকারি দপ্তরের কেরানি? যেভাবে জোর করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে রীতিমতো অপমানিত বোধ করছি।’

এদিকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রেই খবর, এখানে অধ্যাপকদের দিনে ৫ ঘণ্টার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। সেক্ষেত্রে উপাচার্য তাঁদের ঘাড়ে জোর করে সাত ঘণ্টার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত বলেও প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার বেলা ১টা বেজে ৩৫ মিনিটে উপাচার্যের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ভিজিটরস স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, উপাচার্য ছাড়া কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে পারবেন না বলে নতুনভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কমিটির বৈঠক শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নিয়ম মেনে সভা ডাকা হয়নি বলে অভিযোগে তা বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ, মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত আধিকারিক হাজির ছিলেন। কিন্তু কী করে মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে বৈঠক ডাকা হল বলে প্রশ্ন তোলা হলে সবাই উপাচার্যের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এদিনের মতো বৈঠক মুলতুবি রাখার পাশাপাশি ২৪ ডিসেম্বর পরের সভা হবে বলে উপাচার্য সেখানে জানিয়ে দেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *