বর্ধমানঃ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন স্কুল পরিদর্শককে (College Inspector Attacked) বেধড়ক মারধরের ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট আটজন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হল। বুধবার জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দেবব্রত পাল এই কড়া শাস্তির কথা ঘোষণা করেন। তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার আক্রান্ত স্কুল পরিদর্শকের বিরুদ্ধেই থানায় পাল্টা মারধরের অভিযোগ দায়ের করলেন এক শিক্ষকের স্ত্রী।
মঙ্গলবার মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে আঝাপুর স্কুলে পরিদর্শনে গিয়ে এক কর্মীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ। অভিযোগ, এরপরই প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার বিশ্বাসের উস্কানিতে সাত-আটজন শিক্ষক তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ। এই হাড়হিম করা ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে ভর্তি করে। এই প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়েই এদিন প্রধান শিক্ষকসহ আটজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
সাসপেন্ড হলেও দমে যেতে নারাজ অভিযুক্ত শিক্ষকরা। বুধবার বিকেলে প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থানায় পৌঁছান শিক্ষক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী মিতালী দেবী। তাঁর অভিযোগ, “আমার স্বামী হার্টের রোগী জেনেও স্কুল পরিদর্শক মিথ্যা অভিযোগে তাঁর বুকে আঘাত করেছেন।” স্কুল পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আনা এই পাল্টা অভিযোগ ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের এই বেনজির ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, “তৃণমূল শাসনে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ারই নিদর্শন এটি।” অন্যদিকে সিপিএম নেতা অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, “তৃণমূলের আমলেই পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন গুন্ডামি সম্ভব।” যদিও বিরোধীদের গুরুত্ব না দিয়ে জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোণার সাফ জানিয়েছেন, “দোষীদের রেয়াত করা হবে না, ইতিমধ্যেই আটজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।”
