উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রেজিনগরের পর শুক্রবার সরাসরি নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের (Nandigram by-election) নির্বাচনি প্রচারে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নিজের একসময়কার ছেড়ে আসা বিধানসভা কেন্দ্রে এসে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে বিরুলিয়ার একটি প্রচারসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জামানত জব্দ করার জোরালো আবেদন জানান তিনি। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলের পাপের সীমা নেই, এমনভাবে ভোট করুন, যাতে এই ছিন্নমূলের লোকেরা প্রত্যেকের জামানত জব্দ হয়, একটারও যেন জমানত না থাকে।” একই সঙ্গে আজকের এই প্রচারমঞ্চ থেকেই দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে ‘বড় চোর’ বলে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করতে শোনা যায় তাঁকে।
চলতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম (Nandigram)—উভয় আসন থেকেই বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচনী নিয়মবিধি মেনে ভবানীপুর কেন্দ্র নিজের হাতে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়েন তিনি। সেই খালি হওয়া কেন্দ্রটিতে উপনির্বাচনের প্রার্থী করা হয়েছে তাঁরই প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। এদিন তাঁর হয়ে প্রচারে অংশ নিয়ে তৃণমূল শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র হুঙ্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থীর সার্টিফিকেট নিতে গিয়েই বলেছিলাম তৃণমূলের নাম, নিশান থাকবে না। তাঁর দাবি, পিসি-ভাইপোর শুকনো ঘাস বা জোড়াফুলের চিহ্ন আজ কোথাও নেই এবং হাজারো চেষ্টা করেও ইভিএমে কারচুপি করতে পারেনি ওই দল, বরং পশ্চিমবঙ্গের সচেতন জনতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টিকে পুরোপুরি বিতাড়িত করেছে।
বক্তব্যের মাঝেই দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ তুলে সুমিত রায়ের কারাবাসের কথা উল্লেখ করে তিনি হুংকার দেন যে এবার ‘বড় চোর’ও জেলের অন্দরে যাবে। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার প্রসঙ্গ সামনে এনে শুভেন্দু জানান যে তাঁর সহকারী থাকার অপরাধে চন্দ্রনাথকে যেভাবে খুন করা হয়েছে, আগামী ছয় তারিখ তার গণতান্ত্রিক বদলা নিতে হবে। পাশাপাশি, নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নিজের নমিনেশন তুলে নিয়ে ‘ভোকাট্টা’ হয়ে গিয়েছেন বলেও কটাক্ষ ছুড়ে দেন তিনি। অন্যদিকে কংগ্রেস ও সিপিএমের বর্তমান অস্তিত্ব সংকটের কথা তুলে ধরে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে বড় মার্জিনের ভোটের আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন সরকারের জমানায় উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে নন্দীগ্রামবাসীর পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন যে আগে যা সাহায্য করা হতো, এখন তার তিন গুণ করা হবে। একুশের নির্বাচনে কোনো রকম আশা না রেখেই যে এলাকার মানুষ তাঁকে জিতিয়েছিলেন, ছাব্বিশে তাঁরাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছেন, তাই উন্নয়নের জন্য আর বাড়তি চাওয়ার কিছু থাকে না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান যে কথা মতো আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রাম-দেশপ্রাণ-বাজকোল ট্রেন চালু করে দেখানো হবে। এদিনের বীরুলিয়ার প্রচারমঞ্চ থেকে ওডিশা কোস্ট ক্যানেল সংস্কার এবং গ্রামীণ অর্থনীতির পরিকাঠামো বদলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার জোরালো বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

