উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আলোড়ন তৈরি হয়েছে রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। নতুন একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে হয়তো আর ভারতের নীল জার্সিতে দেখা যাবে না এই অভিজ্ঞ ওপেনারকে। সাদা বলের ক্রিকেটে রোহিত এখনও দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার হলেও, তাঁর বয়স, ফিটনেস এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা ভেবে এখন থেকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও নির্বাচক মণ্ডলী। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ যখন শুরু হবে, তখন রোহিতের বয়স ছুঁয়ে ফেলবে প্রায় ৪০-এর কোঠা। আর সেই কারণেই শেষ মুহূর্তে কোনো বড় ঝুঁকির পথে না হেঁটে বোর্ড এখন থেকেই তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে ভবিষ্যতের দল তৈরি করার ব্লু-প্রিন্ট সাজাতে শুরু করেছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেট সাংবাদিক সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রোহিত শর্মা সম্ভবত পরের ওডিআই বিশ্বকাপে খেলছেন না এবং আগামী ইংল্যান্ড সফর তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই টানাপোড়েনের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে তাঁর সাম্প্রতিক ফিটনেস। চলতি ২০২৬ সালের আইপিএল-এ রয়্যালসিবি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই তারকা ওপেনার। স্ক্যানে বড় কোনো সমস্যা না মিললেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন এবং পরে দলে ফিরলেও তাঁকে মূলত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিসিআই-এর এক সূত্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে আইপিএলের মতো ওডিআই ক্রিকেটে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের কোনো সুবিধা নেই। সেখানে একজন ক্রিকেটারকে টানা ৫০ ওভার ফিল্ডিং করতে হয় এবং ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটের এই ধকল নেওয়া শরীরের পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। এমনকি আগামী আফগানিস্তান সিরিজের ওডিআই দলে রোহিতের নাম থাকলেও, কড়া ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করার পরেই তাঁর খেলা চূড়ান্ত হবে।
রিপোর্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি হলো বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মাকে নিয়ে বোর্ডের অবস্থান। বিসিসিআই ও টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি এখন আর এই দুই মহাতারকাকে একই দাঁড়িপাল্লায় রেখে বিচার করতে নারাজ। বোর্ডের মতে, বিরাটের ফিটনেস এখনও দেশের সেরা তরুণ ক্রিকেটারদের পর্যায়ে এবং তাঁর ফর্ম নিয়েও কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু রোহিতের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচে আগের মতো সেই বিধ্বংসী ধার আর দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন নির্বাচকদের একাংশ। ফলে মেডিক্যাল টিমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রোহিতকে নিয়ে যেকোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতে শুবমান গিলের সঙ্গে নতুন ওপেনিং জুটি তৈরির কাজও শুরু হয়ে গেছে, যেখানে রোহিতের বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে যশস্বী জয়সওয়ালকে (Yashasvi Jaiswal)। পাশাপাশি ব্যাক-আপ ওপেনার হিসেবে ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ও ঈশান কিষাণকেও নজরে রাখছেন নির্বাচকরা।
শুধু ওডিআই নয়, টি-টোয়েন্টি দল নিয়েও চলছে বড় রদবদল। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ভারতের কুড়ি ওভারের দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav), অন্যদিকে ২০২৮ সালের অলিম্পিক্স ও আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে সঞ্জু স্যামসনকে (Sanju Samson) তৈরি করার দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। অবশ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ওডিআই-তে রোহিতের রাজকীয় পরিসংখ্যান কিন্তু এখনও তাঁর পক্ষেই কথা বলে। ২০০৭ সালে অভিষেকের পর ২৮২টি একদিনের ম্যাচে ১১,৫৭৭ রান, ৩৩টি শতরান এবং ওডিআই ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ২৬৪ রানের রেকর্ড এখনও তাঁরই দখলে। এমনকি ওডিআই বিশ্বকাপেও তাঁর ব্যাটিং গড় ৬০-এর ওপরে। তবে ইতিহাস যতই সমৃদ্ধ হোক, ক্রিকেটের দীর্ঘতম সাদা বলের ফরম্যাটে শরীর কতটা সায় দেবে, সেটাই এখন আসল প্রশ্ন। আর সেই কারণেই আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজ এবং ইংল্যান্ড সফরই নির্ধারণ করে দেবে ভারতীয় ক্রিকেটে ‘হিটম্যান’ অধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
