দুর্গাপুর: দুর্গাপূজা ও কালিপূজার পরবর্তী সময়ে দুর্গাপুর (Durgapur) পুরসভার ভোট করানোর ভাবনা রয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকারের। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসক মণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত দুর্গাপুর পুরসভার ভোট (Durgapur Municipality Election) নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোট কখন হবে তা বলার অধিকার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের, তবে দু-তিন মাস সময় আমাদের দিন। আশা করছি পূজা পরবর্তী সময়েই ভোট হবে। তার আগে ডিলিমিটেশন ও ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন, ২০১৭ সালের মতো ভোট লুট আর হবে না; দুর্গাপুরের মানুষ এবার স্বচ্ছভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এদিন ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি সরকার আসার পর রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভবিষ্যতে গোটা বাংলায় এই ধারা বজায় থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার রুখতে কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের সরকারের মতো প্রশাসনিক বৈঠকের নামে বিলাসবহুল আয়োজন বা হোটেল বুকিংয়ের সংস্কৃতি এবার বন্ধ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই সরকার বিরোধীদেরও আমন্ত্রণ জানায়, যা আগে সম্ভব ছিল না।” বৈঠকে বীরভূমে রাজস্ব আদায়ের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কঠোর নজরদারির ফলে সেখানে পাথর খনি থেকে দৈনিক রাজস্ব আদায় ৩০ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। রাজ্যজুড়ে বালি ও পাথর খাদানে সিন্ডিকেট, কাটমানি ও তোলাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। বাংলাকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চিত্তরঞ্জন থেকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি কাটিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সিন্ডিকেট ও রাজস্ব ফাঁকি রুখে সরকারি কোষাগার পূর্ণ করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ এবং সংশ্লিষ্ট জেলার বিজেপি বিধায়ক ও আধিকারিকরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের বিধায়কদের ডাকা হলেও তাঁরা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
