উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর কেটেছে মাত্র ২ মাস। আর এর মাঝেই বাংলায় শিল্পায়নের পথে আরও এক বিরাট পদক্ষেপ করল নতুন প্রশাসন। ডানকুনির লাক্স কোজির পর এবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের (Shyam Metal) নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শুক্রবারের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি।
শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি, মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে কোম্পানির এই ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলাগুলির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরাসরি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরামর্শের সুরে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন মেজিয়ার এই প্ল্যান্টের ভিতরটা এসে একবার ঘুরে দেখে যান। “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দিভাষী দেখলেই বলতেন— বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না। আমি বলছি, বাংলার সংস্কৃতি অটুটই আছে। এবার বাংলায় সরকার পরিবর্তন না হলে সব বিনিয়োগ ওডিশায় চলে যেত। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেরোলেই পুলিশ হাত পাতত, সিন্ডিকেট চলত। বিজেপি সরকার আসায় বিনিয়োগকারীরা আবার ভরসা পেয়ে বাংলায় ফিরছেন।” শালতোড়া ও মেজিয়া অঞ্চলের একফসলি জমিতে শ্যাম স্টিলের এই মেগা প্রজেক্ট চালু হলে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের যুবসমাজের ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া কমবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্যাম স্টিলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিল্প-সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার ডাক দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, “কাজের খোঁজে বাংলা ছেড়ে যেতে হবে কেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য আমরা কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লড়াই করে যাব। আমরা পরিশ্রম করব বাংলার মানুষর জন্য, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর জন্য। বাংলার গ্যাপ ফিলিংয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে হবে। আগামী ৫ বছরে যে কাজ করে দেখাব, বাংলার মানুষ তা অনুভব করবে। মোট ১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ। ১০ হাজার বিনিয়োগ এমএসএমই-তে। মোট ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে চলেছে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে। আমাদের শিল্পসমৃদ্ধ বাংলা গড়তে হবে। ভারতের মধ্যে বাংলাই শ্রেষ্ঠ হবে। তা দেখাতে হবে আমাদের।”

