উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গার্ডেনরিচ বা তারাতলার মতো মর্মান্তিক বিপর্যয়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কলকাতা ও শহরতলির সমস্ত ‘জি+৫’ (ছয় তলা বা তার বেশি) বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজের ওপর আগামী এক মাসের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শুক্রবার পিডব্লিউডি (PWD) টেন্টে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এমনটা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কলকাতা পুর এলাকা নয়, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং হাওড়ার বালি এলাকা—এই সমস্ত জায়গায় বাণিজ্যিক বহুতলের নির্মাণকাজ আগামী ১ অগাস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই কড়াকড়ির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্মাণশৈলী ও নকশায় কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। তবে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাধারণের ব্যক্তিগত বসতবাড়ির সংস্কার বা মেরামতির কাজ পড়বে না।
এই নজরদারির জন্য ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মূলত বহুতলগুলোর ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা পরীক্ষা করবে। আগামী সাত দিনের মধ্যেই তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে বহুতলগুলোর অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (Hearth Security) এবং বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর ত্রুটি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে কমিটি। তদন্তে যদি বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বহুতলের সরকারি অনুমোদন বা প্ল্যান চিরতরে বাতিল করার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
“রাজ্যের নগরায়ন থামানো সরকারের উদ্দেশ্য নয়, তবে মানুষের জীবনের দাম সবার আগে,” সাংবাদিক বৈঠকে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্মাণ সংস্থাগুলোকে সংশোধনযোগ্য ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও, নিয়ম না মানলে ছাড় পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটির সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই আগামী অগাস্ট মাস থেকে নতুন করে কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ রিয়েল এস্টেট মহলে কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও, শহরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে একে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। একের পর এক ভবন বিপর্যয়ের ঘটনার পর সরকারের এই সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত কি তবে শহরকে নিরাপদ করে তুলবে? সবটাই এখন নির্ভর করছে ১১ সদস্যের অডিট কমিটির স্বচ্ছ তদন্ত এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

