উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ১০ দিন আগে এই সিঙ্গুরের মাটিতেই সভা করে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। বুধবার সেই সিঙ্গুর থেকেই পালটা রাজনৈতিক হুঙ্কার ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। আবেগ এবং আক্রমণ— দুই অস্ত্রেই বিঁধলেন বিরোধীদের। সিঙ্গুরকে নিজের ‘ফেভারিট’ বা প্রিয় জায়গা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিলেন তাঁর ঐতিহাসিক অনশনের দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, “সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে ২৬ দিন অনশন করেছি। এই মাটি আমার চেনা। তিনি বলেন, ‘‘কেউ চিঁড়ে নিয়ে এসেছিলেন, নাড়ু নিয়ে এসেছিলেন। যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁরা আমার প্রেরণা। ”
এসআইআর (SIR) আসলে এনআরসি-র চক্রান্ত
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এদিন তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, এসআইআর-এর নামে আসলে এনআরসি (NRC) করার চক্রান্ত চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “এসআইআর প্রক্রিয়ার চক্রান্তে যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। তালিকার নাম বাদ দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার এই চেষ্টা আমি মানব না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেবেন না।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ
এদিনের সভা থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Grasp Plan) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা-সাংসদ দেবের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য দেব আমাকে বারবার বলত। আমরা সেই কাজ হাতে নিয়েছি।” এছাড়া ফুরফুরা শরীফ এবং জয়রামবাটির মতো ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি। এদিন শুরুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমবেদনা জানান এসআইআর-আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবারকে। তিনি সমবেদনা জানান, অজিত পাওয়ারের পরিবারকে। এদিন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্য হয়েছে তাঁর।
এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন নিজের আন্দোলনের ইতিহাস মনে করিয়েছেন, তেমনই উন্নয়নের বার্তা দিয়ে আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিয়েছেন।
