উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বসন্তের মাঝেই যেন বর্ষার আমেজ! শুক্রবার রাতভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি (Rain) আর দমকা হাওয়ায় কার্যত ভিজে সপাটে ব্যাটিং করল আবহাওয়া (Climate Replace)। শনিবার সকালেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, কোথাও কোথাও চলছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এখনই রেহাই নেই; আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়েই চলবে এই অকাল দুর্যোগ।
কেন এই অকাল বৃষ্টি?
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সেখান থেকে একটি অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ হয়ে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখাটি ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ অসমের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে, যা বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
উত্তরবঙ্গে (North Bengal Climate Replace) দুর্যোগের সতর্কতা
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।
কলকাতার তাপমাত্রায় বড় পতন
বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে এক ধাক্কায় কলকাতার (Kolkata) তাপমাত্রা কমেছে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শনিবার সকালে নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯.২ ডিগ্রিতে। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৪ ডিগ্রি কম। তবে আবহাওয়া দপ্তর এও জানিয়েছে, আগামী দু-তিন দিন পর তাপমাত্রা ফের ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বাড়তে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ওডিশা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় আগামী দু’দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদেরও সমুদ্র সৈকতে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে।
